বিশ্ব সংবাদ

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে চীনের অর্থনীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির এক জরিপে বলা হয়েছে। 

১১ প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি বিশ্লেষকদের নিয়ে চালানো ওই জরিপে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি হবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও আগের বছরের একই প্রান্তিকের ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটি খুবই কম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্য দেশগুলোর তুলনায় চীনের জন্য এটি সুখবরই বলা যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। চাকরি হারায় লাখ লাখ মানুষ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনই প্রথম অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। দেশটিই প্রথম কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছিল। আবার তারাই প্রথম প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসছে।

এএফটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। যেটা এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ইতিবাচক খবর।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক মাস লকডাউনে ছিল চীন। কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কর্মীদের বাসায় থাকতে ছিল। ভ্রমণ ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবে উহানে গত এপ্রিলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসার পর লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। পুনরায় শুরু হয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম। দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস শুরু হলেও চীন তা নিয়ন্ত্রণেই রেখেছে বলা যায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে ১৯৯২ সালে এক প্রান্তিকে অর্থনৈতিক সংকোচন দেখেছিল চীন।

করোনাভাইরাস চীনের অর্থনীতিতে যে ক্ষতি করেছে, তা অন্য দেশগুলোর জন্যও ব্যাপক উদ্বেগের বিষয়। কারণ, চীন হলো এ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারখানা। বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি-ছোট সব ধরনের কারখানার পণ্য উৎপাদন হয় এখানে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গবেষক ইউয়ি সু বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে জিডিপি সংকোচন স্থায়ী আয়ের ক্ষতির কারণে হয়েছে। সেই সঙ্গে ছোট সংস্থাগুলোর দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ও কর্মসংস্থানের ক্ষতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।’

গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ ছিল তুঙ্গে। তবে ওই অস্থিরতার মধ্যেও চীনের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। গত দুই দশকে চীন গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যদিও সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন রয়েছে, তবে তারপরও তা আশাব্যঞ্জক ছিল।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। কারণ জানুয়ারির শেষ দিকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে বৃহৎ আকারে শাটডাউন এবং কোয়ারেন্টাইন চালু করেছিল তারা। তাই অর্থনীতিবিদরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করছিলেন না। তবে সরকারি তথ্য যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও খারাপ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এটায় প্রতিফলিত হয় যে ভাইরাসের বিশাল প্রাদুর্ভাব এবং এটি সম্পর্কে সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। গত বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় ৬ শতাংশ। এবার সেই আশাও করা যাচ্ছে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..