প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিভিয়ানের আয় কমেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: খ্যাতনামা গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিভিয়ানকে একসময় ‘পরবর্তী টেসলা’ হিসেবে দেখা হতো। ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) বা বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যে ইভি জগতে খ্যাতি কুড়ায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় কমেছে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ১৭০ কোটি ডলার। খবর: সিএনবিসি।

ইভি গাড়ির তালিকায় ফোর্ড মোটর, জেনারেল মোটরস ও ভক্সওয়াগনের মতো অটোশিল্পের শতাব্দীপ্রাচীন সুনাম রয়েছে। সে তুলনায় টেসলা কিংবা রিভিয়ান বেশ নবীন হলেও প্রতিযোগীদের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিভিয়ানের বৈদ্যুতিক পিকআপ ও স্পোর্টস গাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অন্য মডেল বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী টেসলা থেকে নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরতে পারবে রিভিয়ান।

অটোশিল্প খাতে নতুন প্রতিষ্ঠানকে শুরুর দিকে কিছুটা আর্থিক ক্ষতি মানিয়ে নিতে হয় বলে প্রচলন রয়েছে। লাখ লাখ যানবাহন, বিলিয়ন যন্ত্রাংশ ও কর্মীর পেছেনে তাদের বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। পুরো কারখানাকে নতুন রূপ দিতে হয়। যানবাহনের উন্নয়নের জন্য প্রকৌশলীদের সময় ও অর্থের প্রয়োজন। তাদের যোগ্য মানবসম্পদও দরকার।

সেমিকন্ডাক্টরের অভাব ও কারখানাজনিত সমস্যার কারণে তাদের উৎপাদন কমে গেছে। এমনকি অ্যামাজনের জন্য সঠিক সময়ে ডেলিভারি ভ্যান সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে রিভিয়ানের শেয়ারদর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তবে প্রতিষ্ঠানটি ফোর্ড ও আমাজনসহ অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। রিভিয়ানের ১৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক আমাজন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি রিভিয়ান থেকে এক লাখ বৈদ্যুতিক ডেলিভারি ভ্যান কেনার পরিকল্পনা করছে। ঘটনাটি ২০২১ সালের। এরপর তাদের শেয়ারদর হু-হু করে বেড়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ফোর্ড ও জেনারেল মোটরসের চেয়ে বেশি ছিল।

অন্যদিকে ফোর্ড ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তাদের সদস্য রয়েছেন রিভিয়ানের পরিচালনা পর্ষদে। এসব কারণে রিভিয়ান কর্তৃপক্ষ নিজেদের এ আর্থিক ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত নয়। কেননা তাদের কাছে এখনও ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ান ডলার বা এক হাজার ৫৫০ কোটি ডলার রিজার্ভ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইভি গাড়িতে বিপ্লব এনেছে টেসলা। এর আগে ১৯২০ সালে চেরিসলাও এমন অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিয়েছিল। বর্তমানে রিভিয়ানও একই পথে হাঁটছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে মার্কিন গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ করবে। আর ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এই প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড মডেলের সব গাড়ি প্রস্তুত থাকবে চলাচলের জন্য। পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে জাগুয়ার ও বেন্টলের মতো অনেক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো ফোর্ডও হাঁটছে একই পথে।

গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এক বছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে। বিশ্বব্যাপী গ্রাহকের কাছে বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিক্রি বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চীনে। কয়েক ডজন চীনা কোম্পানি এখন এই গাড়ি বানাচ্ছে। তবে সম্প্রতি এমন কয়েকটি চীনা কোম্পানি নরওয়ের বাজারে প্রবেশ করেছে। ক্রেতাদের যখন তখন সর্বাধুনিক ব্যাটারি বদলে নেয়ার সুবিধা দিচ্ছে অনেক চীনা গাড়িনির্মাতা। ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমেরিকান টেসলার সঙ্গে এই বাজারে প্রতিযোগিতা করছে বিএমডব্লিউ ও অডির মতো জার্মান ব্র্যান্ড। আর তেমন অভিজাত ব্র্যান্ড সচেতন এই বাজারে জায়গা করার চেষ্টা করছে চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সেই সময় প্রায় এসে গেছে, যখন ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি খুব দ্রুতগতিতে পেট্রোল আর ডিজেলচালিত গাড়ির বিক্রিকে ছাড়িয়ে যাবে। যেমন জাগুয়ার কোম্পানি পরিকল্পনা করছে ২০২৫ সাল থেকে তারা শুধু বিদ্যুৎচালিত গাড়িই বিক্রি করবে। ভলভো বলছে, তারা ২০৩০ সাল থেকে শুধু ইলেকট্রিক গাড়িই বিক্রি করবে। ব্রিটিশ স্পোর্টসকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লোটাস বলছে, তারাও ২০২৮ সাল থেকে ইভি বিক্রি করবে।