প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান বেড়েছে আজিজ পাইপসের

নিজস্ব প্রতিবেদক: টার্নওভার কমার পাশাপাশি বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বেড়েছে; একইসঙ্গে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২১) শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি আজিজ পাইপস লিমিটেডের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৬ পয়সা (লোকসান), যা আগের বছর একই সময়ে ছিল চার পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় লোকসান বেড়েছে ৬২ পয়সা। আর প্রথম দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২১) ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯৯ পয়সা (লোকসান), যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১১ পয়সা। এছাড়া ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ছয় পয়সা (লোকসান), যা ২০২১ সালের ৩০ জুন ছিল ১৫ টাকা ৯ পয়সা। আর প্রথম দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৬৮ পয়সা (ঘাটতি); অথচ আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬৪ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে নগদ অর্থপ্রবাহ কমার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের পাওনা অর্থ আদায় কম হয়েছে; ফলে নগদ অর্থপ্রবাহ কমেছে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূলধনের অভাব, ব্যাংক ঋণের জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং ঋণের পাশাপাশি কাঁচামাল সংকট ও মজুতের অভাবে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮২ পয়সা (লোকসান)। ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯ পয়সা (লোকসান)। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৪ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৮৩ শতাংশ বা দুই টাকা কমে প্রতিটি ১০৭ টাকায় হাতবদল হয়। যার সমাপনী দরও ছিল একই। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১০৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকায় ওঠানামা করে। দিনজুড়ে কোম্পানিটির মোট ৬৯ হাজার ২৯৮টি ৩৪০ বার হাতবদল হয়। যার বাজারদর ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর গত এক বছরের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮৩ টাকা থেকে ১৬৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ছয় দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৬৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।