দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

দ্বিতীয় ভায়াডাক্টের গার্ডার বসানো সম্পন্ন হলো

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের (পিবিআরএলপি) ভায়াডাক্ট-২-এর সেগমেন্টাল গার্ডার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার পিয়ার এম০১ ও পিএন১-এর ওপর বক্স গার্ডারের শেষ স্প্যান বসানোর মাধ্যমে এ কাজ শেষ হয়। রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ডিএন মজুমদার, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পিবিআরএলপির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন এ. চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্ট কনসোর্টিয়ামের চিফ কো-অর্ডিনেটর অফিসার (সিওও) মেজর জেনারেল জাহিদ এবং চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) প্রকল্প পরিচালক ওয়্যাং কুন শেষ স্প্যান বসানোর সময় উপস্থিত ছিলেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পিবিআরএলপি’র ভায়াডাক্ট-২-এর মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৫৮৯ মিটার। এ সেগমেন্টাল বক্স গার্ডার ভায়াডাক্টটির ৬৫টি স্প্যান রয়েছে, এর মধ্যে চারটি স্প্যান ৩৪ মিটার এবং ৬১টি স্প্যান ৩৮ মিটার। সবমিলে ৭৭৬টি সেগমেন্ট রয়েছে। বাংলাদেশে সিআরইসির সেতু নির্মাণে প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থা বিবেচনা করে চায়না রেলওয়ের ইউয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরইইসি) ডিজাইনাররা এবং চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানির (এমবিইসি) কারিগরি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন অনুসরণ করেছেন এবং পুরু সুপার সিল্টি সূক্ষ্ম বালির স্তর স্থিতিশীল করতে বেন্টোনাইট সøারি ও পলিমার সøারি ব্যবহার করে বোর্ড পাইল নির্মাণের অসুবিধা দূর করেছেন, যার মাধ্যমে পাইল নকশা ও নির্মাণ সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তিনটি বড় আকারের আধুনিক বক্স গার্ডার প্রিকাস্ট ইয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। কংক্রিট বক্স গার্ডার প্রিফ্যাব্রিকেশন ও অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা সেগমেন্টের দৃঢ় কাঠামো ও নান্দনিকতা নিশ্চিত করেছে, পাশাপাশি দ্রুত নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের নির্মাণাধীন সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হিসেবে প্রকল্পটিতে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না প্রিফারেন্সিয়াল ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন সরকারের দুটি প্রিফারেন্সিয়াল ঋণ প্রোগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি একক চুক্তির পরিমাণও এ প্রকল্পে। প্রকল্পটিকে বাংলাদেশ ও চীন সরকার উভয়ই অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পকে শীর্ষ ৮ ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘মাওয়া, ভাঙ্গা, শিবচর ও জাজিরায় স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে ভাঙ্গা জংশন স্টেশন হবে এবং রেললাইনের মাধ্যমে চারটি গন্তব্যকে সংযুক্ত করবে। বিদ্যমান পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন এনে আমরা একে একটি আইকনিক স্টেশনে পরিণত করব। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শেষ করছে বলে আমি আমাদের কনস্ট্রাকশন গ্রুপ সিআরইসিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বৈশ্বিক মহামারির আঘাত সত্ত্বেও তাদের কাজ ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

সিআরইসির প্রতিনিধি ওয়্যাং কুন বলেন, ‘সিআরইসি অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। যার মধ্যে ছিল প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশার অনুমোদন ও পেমেন্ট প্রদানে দেরি হওয়ার ফলে প্রকল্পের কাজে দেড় বছরের কালক্ষেপণ। পাশাপাশি আরও ছিল বৈশ্বিক মহামারি ও বন্যার ফলে সৃষ্ট প্রতিকূলতা। পাইলিংয়ের কাজ থেকে শুরু করে ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু বক্স গার্ডার নির্মাণকাজের পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভায়াডাক্ট নির্মাণে সময় লেগেছে মাত্র দেড় বছর। পিএমবিপি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্প্যান ছাড়া, ভায়াডাক্ট-৩-এর শেষ স্প্যানও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বসবে। বাংলাদেশে সেতু নির্মাণে সিআরইসি চীনা নির্মাণ গতির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। জুন মাসে পিবিআরপিএলের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের ট্র্যাক স্থাপনের পূর্ববর্তী কাজ প্রায় সমাপ্ত হবে এবং ট্র্যাক স্থাপনের কাজ শুরু হবে। যদি এ লক্ষ্য অর্জন করা যায়, তবে আড়াই বছরের মধ্যে একটি নতুন রেললাইন তৈরি হবে এবং চলাচলের জন্য উম্মুক্ত হবে। এটা এক ঐতিহাসিক অর্জন হবে এবং চীন ছাড়া এমন দ্রুতগতির কাজ সাধারণ বিশ্বের অন্য কোথাও হয় না।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..