বাজার বিশ্লেষণ বিশ্ব সংবাদ

দ্বিতীয়বারের মতো সুদহার কমাল ফেডারেল রিজার্ভ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আবারও সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। ২০০৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের সিদ্ধান্ত এলো ফেডের পক্ষ থেকে। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী এবং বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে এ ধরনের ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদহার না কমানোয় দীর্ঘদিন ধরে ফেডের তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর: রয়টার্স; বিবিসি।
নতুন প্রত্যাশিত ঘোষণা অনুযায়ী, সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে এক দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে দুই শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। সুদহার না কমানোর ফলে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েলের সাহসের অভাব রয়েছে বলে সমালোচনা করে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধীরগতিতে সুদহার কমানোয় তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ফেডারেল রিজার্ভ।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এখন অনুকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে উল্লেখ করে জেরোমি পাওয়েল বলেছেন, চলমান ঝুঁকি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে সুদহার কমানো হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতির নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি এবং চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন। পাওয়েল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ফেডের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা দুই শতাংশের মধ্যে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ সংবাদ সম্মেলনের আগে জেরোমি পাওয়েলের সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানের কোনো সাহস, অনুভূতি কিংবা লক্ষ্য নেই।’ পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ভালো। তাদের আরও দ্রুত কাজ করা উচিত ছিল।’
অবশ্য সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। জেরোমি পাওয়েলসহ সাতজন সুদহার কমানোর পক্ষে ভোট দেন। তবে দুজন সদস্য সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দেন। এছাড়া অপরজন সুদহার আরও বেশি কমানোর পক্ষে মত দেন। সুদহার কমানোর ফলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘোষণার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তারাও উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সুদহার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বেশ নি¤œ পর্যায়ে রয়েছে। সুদহার কমানোর খবর বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ধস নামে। যদিও পরে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সুদহার না কমিয়ে অর্থনীতি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধীর করে দেওয়ার জন্য ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তার চাপেও এতদিন সুদহার কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি ফেডারেল রিজার্ভ।

সর্বশেষ..