প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্বিতীয় দফায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুমোদনবিহীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দখল করা পার্কিংসহ ভবনের সামনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আবারও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গত রোববার থেকে রাজধানীর উত্তরায় এ অভিযান শুরু হয়, যা চলবে সারা মাস। এর আগে প্রথম দফায় গত জুলাইয়ে নগরীতে উচ্ছেদ চালায় রাজউক।

রাজউক সূত্র জানায়, এ দফায় রাজউকের জোন-২ থেকে জোন-৫ পর্যন্ত চারটি জোনে অভিযান চালানো হবে। যার মধ্যে উত্তরা, গুলশান, বনানী, বারিধারা, মিরপুর, পল্লবী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি এলাকা পড়েছে। প্রতিটি জোনে চার কর্মদিবস রাজউক কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।

অভিযানের প্রথম দিন ছিল ৮ জানুয়ারি। ওইদিন ছাড়া ১৫, ২২ ও ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর জোন-২-এ উত্তরা আবাসিক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের দিন ধার্য রয়েছে। এছাড়া জোন-৪-এ গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় কার্যক্রমের দিন গতকাল মঙ্গলবারসহ আগামী ১৭, ২৪ ও ৩০ জানুয়ারি। রাজউকের জোন-৩-এ মিরপুর, পল্লবী ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আজ ও ১৮, ২৫ ও ৩১ তারিখে এবং জোন-৫-এ ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া এলাকায় গত ৯ তারিখসহ ১৬, ২৩ ও ২৯ তারিখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এদিকে রাজউকের তালিকা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও পুলিশস্বল্পতায় তা সম্ভব হয়নি। রাজউকের অথরাইজড অফিসার আদিলুজ্জামান জানান, পুলিশ না পাওয়ায় আমরা জোন-৪-এ প্রথম দিনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিনি। তবে আশা করি, সামনের তিন দিনের কার্যক্রম যথাযথভাবে চালানো হবে।

গত জুলাইয়ে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ সব আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা সব ধরনের স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মাধ্যমে এলাকাগুলোকে আবাসিক এলাকা হিসেবে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় আবাসিক এলাকায় ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে রাজউক আওতাধীন অনুমোদন ছাড়া এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনার একটি তালিকা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় গড়ে ওঠা স্থাপনার সংখ্যা এক হাজার ৬২৫টি।

পুরোনো সে তালিকায় আরও নতুন নতুন স্থাপনা যোগ হয়েছে বলে জানায় রাজউক সূত্র। সে তালিকা ধরেই রাজউকের আটটি জোনের মধ্যে চারটি জোনে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে। এর বাইরের চারটি জোনের তালিকাও খুব শিগগিরই তৈরি করা হবে।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে অভিযানের আগে রাজউক চেয়ারম্যানের নির্দেশে সব জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি তালিকা তৈরি হয়। সে তালিকার মধ্যে গুলশান-বারিধারা জোনের অবৈধ স্থাপনা হচ্ছে ৫৫২টি, উত্তরা জোনের ২১৫টি, মিরপুর জোনের ৫৮০টি, ধানমন্ডি-লালবাগ জোনের ১৭৩টি, মতিঝিল-খিলগাঁও জোনে ১০৫টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।

সে তালিকা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনার মধ্যে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ, হোটেল, বেসরকারি অফিস, মার্কেটসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বেশিরভাগই রাজউক থেকে আবাসিক স্থাপনার অনুমতি নিয়ে বাণিজ্যিকসহ কমার্শিয়াল বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, রাজউকের নকশা অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তিন লাখ ২০ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে প্রায় পৌনে তিন লাখই আবাসিক ভবন। এর মধ্যে অনুমোদিত ৫৪ হাজার আবাসিক ভবন ও সাত হাজার সরকারি প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। বনানীতে ৩৯৯, গুলশানে ৯০৪, উত্তরায় এক হাজার ৪৯, মিরপুরে এক হাজার ৮৩৬, মোহাম্মদপুরে এক হাজার ৫৫২ ও ধানমন্ডিতে এক হাজার ১৭০টি আবাসিক ভবনসহ মোট ছয় হাজার ৯১০টি ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া বারিধারার কয়েকটি ভবনেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।