প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণের নিট মুনাফা ৭৯০কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেলিকম খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দেশনা ও কর নীতিমালার কারণে চাপে রয়েছে শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোন। এ অবস্থার মধ্যেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। চলতি পঞ্জিকা ও হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গ্রামীণফোনের আয় পাঁচ দশমিক আট শতাংশ বেড়েছে। এতে আয় দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৯০ কোটি টাকা। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে এ সময় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ কালে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় ছয় কোটি ১৬ লাখ সক্রিয় গ্রাহক নিয়ে ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষ করেছে কোম্পানিটি। এর আগের প্রান্তিকের তুলনায় গ্রাহক দুই দশমিক নয় বেড়েছে। এ সময় কোম্পানিটির ইন্টারনেট ডাটা গ্রাহকের সংখ্যা দুই কোটি ৭০ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৪৩ দশমিক নয় শতাংশ। গ্রাহক ও ইন্টারনেট ডাটা আয়ের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় তিন হাজার ২৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে গ্রামীণফোন, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় পাঁচ দশমিক আট শতাংশ বেশি।

গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, ‘এ প্রান্তিক খুবই প্রতিযোগিতামূলক ছিল। বিশেষ করে গ্রাহক যোগ করার দিক থেকে। ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিশেষ করে রেগুলেটরি ব্যবস্থা ও স্থানীয় করনীতি ব্যবসায়িক সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। এ পরিবেশে থেকেও আমরা ডাটা এবং ভয়েস উভয় খাতেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল শিল্প বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্র একটি সাফল্যের দৃষ্টান্ত। এ শিল্পে আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা ও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টিকে আকর্ষণীয় রাখতে সবার মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা আশাবাদী যে ৪জি লাইসেন্স, তরঙ্গ ভারসাম্য আনতে নিলাম, পুরোনো সিম ট্যাক্সের দাবি ও গ্রাহকের সেবা ব্যবহারের ওপর করের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ও আমাদের শিল্পের মধ্যে অর্থপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও দৃশ্যমান পরিবেশ ও গ্রাহকদের জন্য সুলভ সেবার পথ সুগম হবে।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৯০ কোটি টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে পাঁচ টাকা ৮৭ পয়সা। চলমান তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ৩জি ও ২জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গত তিন মাসে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে গ্রামীণফোন। অন্যদিকে এ প্রান্তিকে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি হিসেবে সরকারি কোষাগারে প্রায় এক হাজার ৬৪০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে, যা কোম্পানিটির মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) দিলীপ পাল বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ও আয় বৃদ্ধি দক্ষতার প্রতি বিশেষ কোম্পানিটির মনোযোগের বহিঃপ্রকাশ। চলমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩জি ও ২জি  নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে ৩৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ সময়ে ১৪১টি ২জি ও ২২৫টি ৩জি বেস স্টেশন (বিটিএস) নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। আর বিনিয়োগকারীদের জন্য গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।’

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সেলফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের প্রায় ১৩৫ কোটি তিন লাখ শেয়ার পুঁজিবাজারে রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ শতাংশ শেয়ারই উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। সর্বশেষ আর্থিক বছরে প্রায় দুই হাজার ২৫২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। এর আগের আর্থিক বছরে (২০১৫-১৬) এক হাজার ৯৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ কোম্পানিটি। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোন। এগিয়ে থাকার কারণে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।