প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) চীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ৯ শতাংশ। প্রত্যাশার তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি। আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সস্তা ঋণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোয় প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে শিল্পোৎপাদন ও ভোক্তা খরচ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ শক্ত অবস্থানে থাকায় প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছয় দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে একই হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক আট শতাংশ।

আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আবাসন খাত সংকুচিত করার চেষ্টার পরও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিনিয়োগ বেড়েছে আট দশমিক পাঁচ শতাংশ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন কঠিন শর্তযুক্ত ঋণ আইন প্রবৃদ্ধিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।

তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শিল্পোৎপাদন বেড়েছে সাত দশমিক ছয় শতাংশ। আর শুধু জুনেই বেড়েছে সাত দশমিক ছয় শতাংশ, যেখানে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ।

অন্যদিকে জুনে চীনে খুচরা বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১১ শতাংশ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর এ খাতে এটিই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা এ খাতে ১০ দশমিক ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এছাড়া গত মাসে দেশটির রফতানি আমদানিও পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি বেড়েছে।

চীনের অর্থনীতি সারা বিশ্বের আমদানি পরিস্থিতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য ও বাণিজ্যিক সেবার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক চীন। দেশটির অর্থনীতি মন্থর হলে এসব পণ্যের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গত ২৬ বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সর্বনি¤œ অবস্থানে নেমে এসেছিল চীনের প্রবৃদ্ধি। দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ওই বছর দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ছয় দশমিক সাত শতাংশ। এর আগের বছর ছিল ছয় দশমিক ৯ শতাংশ।

বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি বর্তমানে অতিরিক্ত ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। চীনের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি উৎসাহদায়ক হলেও তা মোটেই টেকসই নয়।

সহজ ঋণসহ অর্থনীতি উদ্দীপ্ত করার লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি নীতির সুবিধা লাভ করতে ক্রমাগত ঋণ করে চলেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ঢালাওভাবে ঋণ দেওয়ার কারণে বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে। দেশটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে পুরো ব্যবস্থার পতন না ঘটিয়ে মুদ্রানীতি কঠোর ও ঋণে প্রবেশাধিকার হ্রাসের চেষ্টা করছে বেইজিং।

ঋণমানকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরসও (এসঅ্যান্ডপি) চীনের বাড়তি ঋণ নিয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঋণচালিত প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীলতা যে কোনো সময় অর্থনীতির মুখ থুবড়ে পড়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করছে। চীনের এ ক্রমবর্ধমান ঋণের ঝুঁকি অপরিসীম।

এদিকে চলতি ২০১৭ সালে চীনের অর্থনীতিতে তীব্র কোনো পতন ঘটবে না বলে মনে করছে মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ। বরং চলতি বছরের জন্য মাঝারি শ্লথগতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সস্তা ঋণ নিয়ন্ত্রণে যে কোনো ধরনের ধাক্কা আবাসনসহ প্রধান খাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এদিকে বৃহত্তর অর্থনীতির ক্ষতি না করে শূন্যগর্ভ আবাসন মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে চীন সরকার। যেখানে খাতটির প্রবৃদ্ধি সরকারি ব্যয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।