Print Date & Time : 26 May 2020 Tuesday 12:18 pm

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উম্মোচিত হোক

প্রকাশ: মে ২২, ২০১৭ সময়- ১০:৪৫ পিএম

 

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা (এফওসি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে চলতি মাসের ২৫ তারিখে। একে আগামী জুলাইয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন কূটনীতিকরা। সফরটি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত ও কাক্সিক্ষত চুক্তিগুলো সম্পাদন হলে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার কিছু নতুন ক্ষেত্র উম্মোচিত হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকার প্রস্তুতির বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে আলোচিত হচ্ছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে। কলম্বো কী রকম প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আসন্ন সফর ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও অনেকটা স্পষ্ট হবে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনায়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চাইবো, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করুক ঢাকা। এজন্য আন্তরিকতা ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে যথাযথ অধ্যয়ন আমরা কূটনীতিকদের কাছে প্রত্যাশা করি।

জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক সভায় আলোচনা হয়েছে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার ২৭টি ক্ষেত্র নিয়ে। এসবই এফওসির আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। এতে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, ওইসব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে শ্রীলঙ্কা আগ্রহী হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। বস্তুত এ ধরনের কার্যক্রমের সফলতা অনেকটা নির্ভর করে দর কষাকষিতে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতার ওপর। আমরা চাইবো, এটা মনে থাকুক ঢাকায় দায়িত্বে নিয়োজিতদের। একইভাবে কলম্বোর উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোও বিবেচনা করতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা দূরদর্শিতার পরিচয় দিলে উইন-উইন সিচুয়েশন সৃষ্টিও সহজ হবে অনেকটা। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করতে হলে এ ধারায় অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই।

একই অঞ্চলের দেশ হলেও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব বেশি এগোয়নি। অথচ ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে এক্ষেত্রে দেশটির সম্পর্ক বেশ ইতিবাচক। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দেশ দুটির মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিই (এফটিএ) যে এর অন্যতম কারণ, তা বলা বাহুল্য। এছাড়া দেশটির সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের রয়েছে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। এমন চুক্তি সম্পাদনে ঢাকারও আগ্রহ রয়েছে। এ লক্ষ্যে খাত নির্বাচনে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। উল্লিখিত বিষয়ে কাজ সহজ করতে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যায় কি না, আমরা ভেবে দেখতে বলবো সংশ্লিষ্টদের। সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য যদি বাড়ানো না যায়, তাহলে অন্য ক্ষেত্রগুলোয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।

সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) ঘিরে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তার অনেকটাই সম্ভব হয়নি ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের কারণে। এ প্লাটফর্মের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়তো। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথমুক্ত আঞ্চলিক অন্য প্লাটফর্মগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে। এটা নীতিনির্ধারকদের ভাবনায়ও থাকার কথা। এ ব্যাপারে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ প্রত্যাশিত। আশা করি, আসন্ন সফর ঘিরে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা শেষে চুক্তির খসড়াগুলো যথাসময়ে প্রস্তুত করবেন সংশ্লিষ্টরা। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উšে§াচনের বিষয়টি চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হলে তাতে উভয় দেশের বহুমুখী সম্ভাবনা বিকাশের পথও উš§ুুক্ত হবে। বলা বাহুল্য, মানুষের যাতায়াত ও বহুমাত্রিক যোগাযোগ রাষ্ট্রীয় সম্পর্কেও ফেলে ইতিবাচক প্রভাব। এ লক্ষ্যে ঢাকা-কলম্বো যাতায়াত আরও সহজ করা যায় কি না, ভেবে দেখা দরকার। উভয় দেশের মানুষের সম্পর্ক জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আমরা চাই।