প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসৃত হোক

দ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্য ইস্যুতে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি জানান, ‘জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে বা সরবরাহ কমে যাচ্ছে, এই জিনিসগুলো কীভাবে হ্যান্ডেল করতে পারব। কোন জায়গায় রেস্ট্রিকশন দিলে ভালো হবে বা ওপেন করলে ভালো হবেÑএগুলো দু-তিন দিনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তুলে ধরতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সময়োপযোগী বলেই আমরা মনে করি। দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলতেই পারেন। তিনি অতিভাষী নন। কিন্তু মাঝেমধ্যে তিনি এমন সব কথা বলেন, হাস্যরসের খোরাক জোগায়। মানুষ ভালো সময় পার করছে না। হাস্যরসেরও দরকার আছে। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রীর হাস্যরস সরকারের জন্য বিব্রতকর, সাধারণ মানুষের কাছে একপ্রকার তামাশা। যেমনÑবুধবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ওই সময় তিনি বলেন, সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সয়াবিন তেল ক্ষতিকর, এটি তো কমবেশি সবাই জানেন। এখন দাম বৃদ্ধির বিষয় আড়াল করতে বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন কথা নতুন নয়। এর আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন তিনি, যেগুলো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে আশা করা যায় না। রাজনীতিক হিসেবে তিনি অনেক কথা বলতে পারেন, কিন্তু মেঠোকথা সবখানে মানায় না। যেমনÑএকসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার কম হবে না। কিন্তু তা প্রায় ৩০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। দাম নামবে না, তাহলে ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ পেয়ে যান।

আমরা মনে করি, মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা  সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন জোগাবে। 

সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে রাইস ব্র্যান ও শর্ষে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেটি তো সময়সাপেক্ষ। মানুষ বড় বিপাকে আছে এ সময় জ্ঞানদানের চেয়ে বাস্তব ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে সাশ্রয়ী হবেই। মন্ত্রীর বক্তব্য দ্রব্যমূল্য কমাতে সহায়তা করবে না। জনগণকে  আশ্বস্ত করতে হবে, ভরসা দিতে হবে। সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, বা কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে; মত চাইতে পারে। মজুতদারির কারণে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। মিলগেট থেকে সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়ানোর অভিযোগও আছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে ভোক্তারা বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজি। সরকারও চক্রের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করে। কোনো কারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বোঝাপড়া করলেও পণ্যের দাম প্রশ্নে আপস কাম্য নয়। মুক্তবাজার অর্থনীতির এ সময়ে গুটিকয় ব্যবসায়ীর কাছে বাজার ছেড়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সিন্ডিকেট করে পণ্য আমদানি করে এবং বাজার অস্থিতিশীল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্য ইস্যুতে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তা পরিপালনে মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা নেবে, এটিই প্রত্যাশা। তদারকি বাড়িয়ে সহনীয় রাখতে হবে নিত্যপণ্যের দাম। বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সে লক্ষ্যে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে।