সম্পাদকীয়

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানো হোক

বেশ কয়েকদিন ধরে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। কোনো পণ্যই ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কোনো ধরনের কারসাজি সরকার বরদাশত করবে না। এই হুশিয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা কতটা আমলে নিয়েছে, তা সবার জানা। আবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার দায় কেউ নিচ্ছে না। প্রকৃত দায় কার, তা নির্ধারণ করার এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নের দায়িত্ব সরকারের। সেজন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক তদারকি।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বেসামাল নিত্যপণ্যের বাজার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাজারের বর্তমান অবস্থার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ, আদা, রসুন, হলুদ ও ডিম থেকে শুরু করে শাকসবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ মানুষের আয়-রোজগার অনেকটা কমেছে। দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ভোক্তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার চাল ও আলুর দাম নির্ধারিত করে দিয়েছে। কিন্তু তা মানছে না কেউ।  

নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত তো কষ্টে আছেই, মধ্যবিত্ত পরিবারও নিদারুণ কষ্টে আছে। বাজার পর্যবেক্ষক ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলোর তদারকি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। বড়-ছোট সব বাজার ও দোকানে পণ্যের মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখতে হবে। এর আগে যেসব কারণে পণ্যমূল্য বেড়েছিল, সেসব কারণ চিহ্নিত করে বিষয়গুলোর ওপর কঠোরভাবে নজরদারি, দায়ীদের দ্রুত জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারলে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। অবৈধভাবে মজুতদারদের সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। বলা যায়, কভিডকালে দেশে এক ধরনের ক্রান্তিকাল চলছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়া চাই। অতিরিক্ত মুনাফা কিংবা কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এমনকি ভোক্তাদেরও পরিমিতিবোধ থাকা প্রয়োজন। দাম কমলে পণ্য কিনতে হামলে পড়ার প্রবণতা পরিহার করতে হবে।  

অনেক সময় মজুত করে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এতে দাম বেড়ে যায়। তাই মজুত-প্রবণতাও রোধে বড় আমদানিকারক-ব্যবসায়ীর গুদামগুলোয় নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছুসংখ্যক নিত্যপণ্যের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলে প্রয়োজনীয় সময়ে ভোক্তাসাধারণের কাছে সরবরাহ করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক সংস্থার টিসিবি’র কাজ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনগণের স্বার্থেই টিসিবিকে এগিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়,  টিসিবি’র সাশ্রয়ী দামের পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি এ দায়িত্ব কতটা পালন করছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..