প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দ্রুত নিরক্ষরতামুক্ত করা হোক দেশকে

 

দেশে সাক্ষরতার হার কত এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর নেই। একেক সংস্থার জরিপে একেকরকম তথ্য পাওয়া যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যেও বিভিন্ন ধরনের তথ্য মিলছে। প্রতিবছর সাক্ষরতা দিবসে সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্রোড়পত্র বের হয়, সেখানেও সাক্ষরতার হারে গরমিল দেখা যায়। ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে একই মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এ হার ৬৫ শতাংশ বলে জানান। মাত্র এক বছরে সাক্ষরতা ছয় শতাংশ কমে যায়! একেক সময় একেক হিসাব দেওয়ায় সত্যিকার অর্থে দেশের কত শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা জানার নির্ভরযোগ্য উপায় থাকে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব নিয়ে কাজ করে। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত গবেষণা-জরিপ থেকে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে ১১ বছরের বেশি বয়সীর সাক্ষরতার হার ৫১.৩ শতাংশ। একই সংস্থার ২০০২ সালের জরিপে এ হার ছিল ৪২ শতাংশের মতো। এ হার ১৪ বছরে বেড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ! একুশ শতকে এরকম সাক্ষরতার হার বহন করা দুর্ভাগ্যজনক।

সাক্ষরতার হারের হিসাবে ভিন্নতা থাকলেও দেশকে শতভাগ সাক্ষর করতে হলে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তা নিয়ে কারও সংশয় নেই। বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তিনি আর দুটো বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী থাকতে পারলে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শিক্ষানীতি পাসের সময় বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। ২০১৪-এর পর আরও দুটো বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু এখনও দেশের অর্ধেক মানুষ নিরক্ষর। মন্ত্রী মহোদয় কীভাবে দুবছরে সবাইকে সাক্ষর করবেন তা বোধগম্য নয়। আমাদের মনে আছে, দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য ৯০ দশকে ‘সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলন’ নামে এক কর্মযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকার অপব্যবহার ছাড়া তেমন কিছু সেখান থেকে পাওয়া যায়নি। এমনকি যে গ্রাম বা ইউনিয়নকে তখন নিরক্ষরতামুক্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সপ্তাহখানেক পরই সেখানে নিরক্ষরদের সন্ধান মিলেছে। মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চয়ই এ ধরনের কর্মযজ্ঞ আয়োজনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।

দুবছরে দেশে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে কেউ মনে করবেন না। বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মপন্থা গ্রহণ করে কত সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করা সম্ভব, তার একটি গাইডলাইন বরং তৈরি করা প্রয়োজন। কিছুদিন আগেই সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এমডিজির সময়কাল পার হয়েছে। এখন এসেছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি। এমডিজিতে আমাদের অর্জন কম নয়; এর পরের ধাপ অর্থাৎ এসডিজিতে সফল হতে হলে কার্যকর সাক্ষরতা অর্জন না করে উপায় নেই। সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় দেশকে দ্রুত নিরক্ষরতামুক্ত করবে এ আহ্বান থাকবে আমাদের।