সম্পাদকীয়

ধনীদের থেকে বাড়তি কর সংগ্রহণে উদ্যোগ কাম্য

অতিমারি কভিডকালে ধনীদের থেকে সম্পদ সংগ্রহে প্রচেষ্টা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দেয়া প্রাক-বাজেট প্রস্তাবে সিপিডি বলেছে, মহামারিকালে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ধনীদের কাছ থেকে করহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সম্পদশালীদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্রহ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের মাঝে সুষম বণ্টন করা হলে তা কর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে মনে করছে সিপিডি।

আমরা মনে করি, সিপিডির পরামর্শ সময়োপযোগী। কভিডকালে কোনো খাতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর সুবিধা দেয়া যেতে পারে। কিন্তু তা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়। ধনীদের কাছ থেকে করহার বৃদ্ধির প্রস্তাবে সিপিডি বলেছে, গত অর্থবছরের করকাঠামোয় করের সর্বোচ্চ হার যে ৩০ শতাংশ ছিল, সেখান থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির বিবেচনায় এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মন্তব্য করে এটি আগের অবস্থায় অর্থাৎ আবার ৩০ শতাংশে নিয়ে আসা উচিত। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ ধনীদের কাছ থেকে কর আহরণ হার বাড়িয়েছে। বর্তমান সংকটকালে আমাদেরও সম্পদশালীদের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্রহ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের মাঝে সুষম বণ্টন করতে হবে। আমরা নিজেরা প্রান্তিক জানগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পারছি না। এখন কারও সহায়তা নিয়ে হলেও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পারি। এটি করা গেলে তাদের কর্মক্ষম রাখতে না পারলে মানবিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা বাড়বে। অবশ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে কভিডকালে যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তা আরও কিছু সময় অব্যাহত রাখতে পারবে।

সিপিডির বাজেট প্রস্তাবে কভিড চিকিৎসায় ব্যবহার্য সব কাঁচামালে কর-শুল্ক ছাড় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেখানে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, কভিড মোকাবিলায় সরকারের অবহেলা রয়েছে। সেখানে কর-শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব উপেক্ষে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কভিডকালে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা অনিয়ম স্পষ্ট হয়েছে। এখন স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে নিতে এ খাতে সুযোগ বাড়ানো অপরিহার্য। বিশেষ করে কভিড যাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে। স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তার ও নার্সসহ ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধাদের প্রণোদনার ৯০ শতাংশ এখনও পাননি। তাদের প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ তাদের চিকিৎসাসেবায় ধরে রাখা প্রয়োজন। ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো যেতে পারে। কভিড পরিস্থিতি না থাকলেও তাদের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে কভিডকালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে

পাওয়া ঋণ, দান, অনুদান যাতে যথাযথভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের বাজেটের ওপর চাপ কমাবে।

বাজেট ঘোষণার আগে নিজেদের মতো করে প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দেবে বিভিন্ন সংগঠন, অংশীজন। সব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..