দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

ধর্ষণ, মানসিক বিকারগ্রস্ততা ও রাষ্ট্রের দায়

মোশারফ হোসেন: গত মাসে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের পর চলতি মাসের ৪ তারিখে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আরেক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে প্রচারের ঘটনায় কয়েক দিন ধরেই নানা মহলের আন্দোলন ও প্রতিবাদে সরব দেশ। একের পর এক বিচারহীন নারী নির্যাতন আর ধর্ষণের ঘটনায় দেশের হতাশ মানুষের অনেকেই এই ঘটনায় লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা আশায়ও বুক বেঁধেছেÑএবার বোধহয় কিছু একটা হবে, ধর্ষকদের শাস্তির মাত্রা বাড়বে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে! কিন্তু পাশাপাশি একটা সত্য ভয়ও মনে কাজ করছেÑআমাদের দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো আন্দোলনই স্থায়ী হয় না এবং সফলতার মুখ দেখে না। তাই নারী নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী এই আন্দোলনও হয়তো আলোর মুখ দেখার আগেই থেমে যাবে বা থামিয়ে দেওয়া হবে।

আসলে দেশে যেভাবে ধর্ষণের ভয়াবহতা বেড়ে গেছে, তাতে দেশটাকে ‘ডিসকভারি চ্যানেল’ মনে হয়। আর দেশের অবলা নারীরা যেন সেই চ্যানেলে দেখানো নিরীহ হরিণের ন্যায় সর্বদাই একদল হিংস্র বুবুক্ষু জানোয়ারদের দ্বারা তাড়িত হচ্ছে! কী নির্মম, কী বীভৎস! ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। অথচ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের এই দেশটি যেন নারী নিপীড়কের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অমানুষ বনে যাওয়া একদল হায়েনা প্রায় প্রতিদিনই আমাদের মা-বোনদের লাঞ্ছিত করছে। এক মা ধর্ষিত হচ্ছে আরেক মায়ের সন্তান দ্বারা, এক বোন ধর্ষিত হচ্ছে আরেক বোনের ভাই দ্বারা, এক স্ত্রী ধর্ষিত হচ্ছে আরেক স্ত্রীর স্বামী দ্বারা!

একশ্রেণির সুরতি মানুষ নিজেদের বর্বর জন্তু-জানোয়ারের পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে এসেছে। আর আমরা এসব জন্তু-জানোয়ারদের চিড়িয়াখানা বা জঙ্গলে নির্বাসিত করছি না বলে দিন দিন তাদের অত্যাচার-অনাচার বেড়েই যাচ্ছে। আর এতে একে একে শিকার হয়ে যাচ্ছেন তনু-নূসরাতের মতো নিষ্পাপ-নিরীহ মেয়েরা। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? আর কত নারীর ইজ্জত চাই আমাদের? আমরা কীসের অপেক্ষায় আছি? নিজের মেয়ে, মা, বোন ও স্ত্রীদের আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষায় কি রয়েছি আমরা? সুস্থ মননের আমরা কেউই হয়তো এমন অপেক্ষায় প্রতীক্ষারত নই। কিন্তু একটা আশু ভয় যেন তাড়া করছে দেশের প্রতিটি বাবাকে, প্রতিটি ভাইকে, প্রতিটি সচেতন পুরুষকেÑনা জানি কখন আমার পরিবারেরও কোনো নারীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে!       

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শত্রুদের বিরুদ্ধে আমরা কি কেবল স্বাধীনতার জন্যই যুদ্ধ করেছিলাম? না, আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের শোধ নেওয়াটাও যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও এই যদি এই হয় দেশে নারীদের অবস্থান, তাহলে স্বাধীনতার মূল্য কী থাকল? ’৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশের নারীদের সম্ভ্রম কেড়েছে; এখন কারা করছে এসব? ধর্ষক কারা, ধর্ষণের কারণ ও করণীয় নিয়ে দেশের কর্তাব্যক্তিরা নিশ্চয় অবগত আছেন। তবুও কয়েকটি বিষয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ আছে, যা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।                                                         

দেশের সিনেমায় যেভাবে ধর্ষণকে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে, এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ সিনেমা, নাটক বা বিনোদনে মানুষ নিজেকে সম্পৃক্ত করে আনন্দ পায়। তাই এসবের একটি পরোক্ষ প্রভাব পড়ে মানুষের চিন্তা-চেতনায়। সিনেমার নায়ককে দেখে দেখে কারও কারও মনে সামাজিক অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধে যেমন নায়কোচিত সুপারম্যান জেগে ওঠে, ঠিক তেমনি ভিলেনের বদমায়েশিও কোনো কোনো মানুষকে অমানুষ হতে আহবান করে। ধর্ষণ একটি সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশের সিনেমাতে তা-ই করা হয়েছে প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই যেন একটি ধর্ষণদৃশ্য থাকা চাই এবং সেটা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও খোলামেলাভাবে, যা মানুষকে বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণদের মাঝে যৌন কামনা জাগায়। তাই আমাদের দেশীয় সিনেমার সেন্সরশিপের আওতা বাড়িয়ে প্রতিটি নাটক-সিনামার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও রুচিশীল নাটক-সিনেমাকে অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদন-বহির্ভূত অশ্লীল ও যৌনতানির্ভর নাটক-সিনেমার অভিনয়শিল্পী, প্রদর্শক, নির্মাতা ও পরিচালকদের  শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার ও পর্নোগ্রাফি বন্ধে পর্নো ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দিতে হবে, বাড়াতে হবে সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চা।

ছেলেমেয়েদের যথাসময়ে বিয়ে দিতে হবে। এজন্য সঠিক সময়ে বিয়ের প্রতিবন্ধকগুলোকে দূর করতে হবে। আমাদের দেশে যথাসময়ে বিয়ের সবচেয়ে বড় দুটো প্রতিবন্ধক হচ্ছে যৌতুক ও বেকারত্ব। যৌতুক একটি অত্যন্ত গর্হিত ও ঘৃণিত কাজ হওয়া সত্ত্বেও যৌতুককে আমাদের দেশে একটি পক্ষ অধিকার এবং আরেকটি পক্ষ আভিজাত্য মনে করে। কোনো কোনো ছেলের বাবা যৌতুককে তার প্রাপ্য হক মনে করে বিয়েশাদির সময় মেয়ে পক্ষের কাছে বাজারের ফর্দের মতো যৌতুকের ফর্দ ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে কোনো কোনো মেয়ের অভিভাবকও জামাইকে বিয়ের সময় উপহার দেওয়ার নাম করে যৌতুক দিয়ে নিজের আভিজাত্য জাহির করতে চায়। যৌতুকের এই দুই শ্রেণির কারবারিদের কারণে বহু গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের যথাসময়ে বিয়েশাদি হয় না। আবার মোটা অঙ্কের দেনমোহরও অনেক পুরুষের পছন্দসই ও যথাসময়ে  বিয়েশাদিকে  দুঃসাধ্য করে তোলে। অন্যদিকে বেকারত্ব ঘোচানোর সংগ্রামে কিংবা চাকরির সন্ধানে ম্যারাথন পথ পাড়ি দিতে দিতে অনেক পুরুষেরই বৈবাহিক জীবন বিলম্বিত হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে ধর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি না হলেও ব্যভিচার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।      

খাদ্য, ঘুম, বিশ্রাম, চিকিৎসা, বিনোদন প্রভৃতির মতো জৈবিকতাও মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর একটি, যা খুবই প্রয়োজনীয় হওয়া সত্ত্বেও আমরা যথাযথভাবে গুরুত্ব দিই না, বা দিলেও যথাসময়ে দিই না। তাই বাবা-মায়েদের এ ব্যাপারে অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে হবে। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাদের সঠিক সময়ে বিয়েশাদি দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রাখতে হবে। সরকারি প্রশাসনকে বিয়ে বন্ধে যতটা তৎপর দেখা যায়, ধর্ষণ বন্ধে কিংবা অসহায় ও গরিব ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। তাই গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিয়েশাদিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার জন্য বাজেটে সরকারিভাবে উপজেলাওয়ারি বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। আর যৌতুকের প্রতি মৌন সমর্থন থেকে সরকারকে বেরিয়ে এসে যৌতুকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।                                                 

জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন শুধু শারীরিক ও বয়সগত বিষয় নয়। এখানে নৈতিকতা ও মানসিক বিকৃতির একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। নিজের সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্বহীনতা এবং বেখেয়ালিপনাও সন্তানদের উচ্ছন্নে যাওয়ার অন্যতম কারণ। নিজের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কী করছে, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও সামাজিক মাধ্যমের ফেয়ার ইউজ করছে কি না, কাদের সঙ্গে চ্যাট করে এসব বিষয়ে বাবা-মাকে কিছুটা গোয়েন্দাগিরি করতে হবে। ছেলেমেয়েদের  সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যাতে ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কাছে তাদের প্রয়োজন, অভাব, ভালো-লাগা, মন্দ-লাগাগুলো নির্ভয়ে ভাগাভাগি করতে সাহস পায়। বাবা-মাকেও তাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে, কাউন্সেলিং করতে হবে, বোঝাতে হবে কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোনটা নৈতিক, কোনটা অনৈতিক, কোনটা ধর্ম, কোনটা অধর্ম, কোনটা আইনি আর কোনটা বেআইনি।

নেশার ছোবলেও অনেক পুরুষ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। তারা আলো-আঁধারের পার্থক্য করতে পারে না, ভালো-মন্দ বাছবিচার করতে জানে না। ফলে কোলের শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে তাদের কাছে। সম্পর্কের সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুশাসন ও নিষেধাজ্ঞাও আটকাতে পারছে না তাদের। ফলে মামার কাছে ভাগ্নি, চাচার কাছে ভাতিজি এবং শিক্ষকের কাছে ছাত্রী ধর্ষিত হচ্ছে! তাই যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে, মাদকের কারবারি ও ব্যবহারকারী সবার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।                      

কাগজে বন্দি আইন, বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক আশকারাও ধর্ষণের অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। বর্বরোচিত ধর্ষণ মামলার আসামিদেরও জামিন পেয়ে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। আবার ধর্ষক যদি নিজ দলের কর্মী বা প্রতাপশালী কেউ হয়, তাহলে ধর্ষণের ঘটনাগুলো দফারফা করে দেওয়া হয় ধর্ষিতাকে সামাজিক গ্লানির ভয় দেখিয়ে বা কয়েক হাজার টাকার ধর্ষণমূল্য পরিশোধের মাধ্যমে!  

ধর্ষণ বন্ধে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যেক্ষেত্রে মেয়েদের দুর্বল ও প্রাকৃতিক দিনগুলো নিয়েই তাদের স্পষ্ট করে বলার ও শোনার পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারিনি, সেখানে নিজের মেয়েকে ধর্ষণবিষয়ক জ্ঞান দেওয়াটা অনেক দুঃসাধ্য ও পরিতাপের বিষয় হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চিন্তা করলে বলতে হয়, বাবা হিসেবে সেই প্রস্তুতিও বোধহয় নিতে হবে! তবে আমরা আশা করতে চাই, সেই দুর্দিন আসার আগেই দেশ থেকে ধর্ষণ ও ধর্ষকÑদুই-ই নির্মূল হবে। 

ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ষিতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থানও ধর্ষণের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ধর্ষিত একটি মেয়ের নিজের কোনো অন্যায় না থাকা সত্ত্বেও আমরা তার ব্যাপারে নাক সিটকায়, আর ধর্ষককে পুষ্পমাল্য দিয়ে বরণ করি! ধর্ষকের তথ্য প্রচার না করে ধর্ষিতার তথ্য প্রচার করি! যেমন আপনাকে যদি কোনো ধর্ষকের নাম বলতে বলা হয়, আপনি বলতে পারবেন না। কিন্তু কয়েকজন ধর্ষিতার নাম বলতে বললে, আপনি আমার মতো করে অবলীলায় বলে যাবেন তনু-নূসরাতদের নাম। ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতাকে অবজ্ঞা না দেখিয়ে, সেটা করতে হবে ধর্ষকদের ক্ষেত্রে। তাদের ঘৃণার চোখে দেখতে হবে, একঘরে করে রেখে তাদের সব সামাজিকতার বাইরে রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী কি না এ নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে আমার মতে ধর্ষণের জন্য পোশাক সরাসরি দায়ী না হলেও ছোট, খোলামেলা ও আঁটসাঁট পোশাক ধর্ষণের জন্য পরোক্ষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এসব পোষাক ধর্ষকদের মনের কুপ্রবৃত্তিকে শানিত করে এবং এভাবে পুঞ্জীভূত কুচিন্তা একসময় ধর্ষণে পর্যবসিত হয়। ফলে ছোট পোশাক পরা মেয়েটির কিছু না হলেও অন্য সাধারণ কোনো মেয়ে শিকারে পরিণত হয়। চালক হিসেবে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে শুধু নিজে সতর্ক হয়ে ড্রাইভ করলেই হয় না, অন্যসব উচ্ছৃঙ্খল চালকদের আক্রমণ থেকেও নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারলেই তবে নিরাপদ ভ্রমণ সম্ভব। ঠিক তেমনিভাবে মেয়েদের উচিত নিজেরা সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দুপেয়ে শকুনদের বীভৎস দৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জায় শালীনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। ফিল্মি স্টাইলে আঁটোসাঁটো পোশাক, অর্ধনগ্ন পোশাক যেগুলো বিকৃতমনা মানুষদের মনে পাশবিকতা জাগিয়ে তোলে সেসব পোশাক পরা পরিহার করতে হবে।

ধর্ষণের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে বহু আগে থেকেই। সরকারের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না, কারণ বর্তমানে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ যদি থাকত তাহলে দেশে ধর্ষণ এত ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাতে পারত না। আইনের প্রয়োগ না হলে মৃত্যুদণ্ডের আইনেও ধর্ষণ থামানো যাবে না।

স্বাভাবিক যৌনতা প্রত্যেক মানুষের জন্যই প্রয়োজনীয় ও কাক্সিক্ষত একটি বিষয়। কিন্তু ধর্ষণ কোনো স্বাভাবিক যৌনতা নয়, সুস্থ ও স্বাভাবিক কোনো মানুষের কাছেই ধর্ষণ কাক্সিক্ষত কোনো বিষয় নয়। যে যৌনতা একটি মেয়ের জন্য স্বাভাবিক একটি ঘটনা হতে পারত, সেটি যখন ধর্ষণে রূপান্তরিত হয়, তখন মেয়েটির জীবনের সব প্রদীপ নিভে যায়, বেঁচে থাকার শেষ শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে সে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের নামে, আদালতে জিজ্ঞাসা করার নামে তার বিরুদ্ধে এ সমাজ যে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে থাকে, সেটা একটি মেয়ের কর্ণকুহর বিদীর্ণ করে তাকে বারবার মরে যেতে বলে। তাই দেশের আর একটি মেয়েও যেন ধর্ষণের শিকার না হয়, এমন একটা সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মব্যবস্থা গড়ে উঠুক দেশেÑএ প্রত্যাশা রাখছি।

ব্যাংকার ও ফ্রিল্যান্স লেখক

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..