সারা বাংলা

ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নাগরপুরে বন্যায় বেইলি সেতু

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: যমুনা-ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এ দুই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ঢুকে পড়েছে। টাঙ্গাইলের সলিমাবাদ-ধুবড়িয়া সড়কের তেবাড়িয়া কালীবাড়ি সামনের বেইলি সেতু বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অফিসের তথ্যমতে, যমুনা ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধিতে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে গতকাল শনিবার উপজেলার কলমাইদে বন্যার পানিতে ডুবে কলমাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুলের মৃত্যু হয়েছে। সে কলমাইদ গ্রামের আমিনুরের ছেলে। দুপুরে বাড়ির পাশে ডুবে যাওয়া খাদে পড়ে তার মৃত্যু হয়। বন্যার কারণে উপজেলার ৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে এবং অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
সলিমাবাদ-ধুবড়িয়া সড়কের তেবাড়িয়া কালীবাড়ি সামনের বেইলি সেতু বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া নাগরপুর-চৌহালী, নাগরপুর-ধল্লা, নাগরপুর-বাটরা সড়কসহ নাগরপুর উপজেলার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের সংযোগ সড়কে বন্যার পানি উঠে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও নাগরপুর-মির্জাপুর ভায়া মোকনা সড়ক।
এসব সড়কে বন্যার পানি উঠে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে বন্যা দুর্গত চরাঞ্চল এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি উঠায় অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, প্লাবিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে বন্যার্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া তাদের মাঝে শুকনো খাবার, চাল, ডাল বিতরণ করেছেন। তিনি ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।

 

সর্বশেষ..