সম্পাদকীয়

ধানের দাম নিয়ে দায়িত্বশীলদের যুক্তিসংগত বক্তব্য প্রত্যাশিত

প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জমিতে উৎপাদিত ফসলের আয় দিয়ে তাদের জীবিকা চলে। কিন্তু ফসল উৎপাদন করে কৃষক যদি ন্যায্য মূল্য না পান তাহলে তাদের কষ্টের শেষ থাকে না। এ অবস্থায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের সজাগ হওয়া উচিত ছিল। হতাশাজনকভাবে তা হয়নি, ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে ভুগছেন কৃষকরা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ধানের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে যাচ্ছেন। এতে সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।
রাইস মিল মালিকদের করা সংবাদ সম্মেলন নিয়ে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘সিন্ডিকেটের কারণে ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষক’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বড় রাইস মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করছে। ধানের ন্যায্যমূল্য পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আট দফা দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রকৃত কৃষক খুঁজে বের করা কঠিন হওয়ায় ধানের দাম নির্ধারণ অসম্ভব। সমস্যার সমাধান না খুঁজে এ ধরনের কথা বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলে আমরা মনে করি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ১২-১৩ টাকা। অথচ বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। অথচ তৈরির খরচসহ প্রতি কেজি চালের দাম ৩০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তারপরও চালের এত দাম কেন, বোধগম্য নয়। একশ্রেণির ব্যবসায়ী ধান থেকে মোটা অঙ্কের মুনাফা তুলে নিচ্ছেন অথচ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে তাও অগ্রহণযোগ্য।
ধানের দাম কম হওয়া নিয়ে সিন্ডিকেট, বাড়তি রাইস মিল, ব্যাংকঋণে বৈষম্য, বাড়তি ধান উৎপাদন, চাষের খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কথা বলা হচ্ছে। এর সবই কিন্তু সমাধানযোগ্য। এছাড়া বাড়তি উৎপাদনের কারণে ধানের দাম কমার কথা বলাও যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এটি রফতানিযোগ্য এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। দাম কমার জন্য একটি চক্র জড়িত এটা স্পষ্ট। এক্ষেত্রে যারাই জড়িত থাকুন না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশে তার প্রভাব পড়বে। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..