প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ধারাবাহিকভাবে কমছে তিতাস গ্যাসের মুনাফা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ধারাবাহিকভাবে কমছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তিতাস গ্যাসের মুনাফা। এক বছরের ব্যবধানে এ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমেছে ১৬৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। গ্যাসের বিতরণ মার্জিন কমিয়ে আনা, নতুন সংযোগ বন্ধ থাকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বেশকিছু কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি চাপের মুখে পড়েছে। যে কারণে ক্রমাগতভাবে লোকসান হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটির।
চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) শেষে মুনাফা কিছুটা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে কি নাÑতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, বছর শেষে সব হিসাব মিটিয়ে যে মুনাফা আসবে সেটাই দেখার বিষয়। তখন বোঝা যাবে কোম্পানিটি আসলে মুনাফা করেছে কি না।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা কমে আসছে। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা। আগের আর্থিক বছরে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৫০৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৭২৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে যার পরিমাণ ছিল ৮৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমেছে ৫৪৯ কোটি টাকা।
এদিকে মুনাফা কমলেও প্রতিষ্ঠানটির রিজার্ভ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, যা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডাররা বলেন, কোম্পানির যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে তারা সেই তুলনায় লভ্যাংশ প্রদান করেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর মুনাফার একটা অংশ রিজার্ভে জমা হচ্ছে। সে কারণে দিন দিন রিজার্ভ বাড়ছে। এটা আসলে পরিচালনা পর্ষদের বিষয় তারাই বিষয়টি ভালো জানেন।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাসের কোম্পানি সচিব মাহমুদুর রব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে নতুন সংযোগ বন্ধ থাকা। এদিকে নতুন সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে অবৈধ্য সংযোগ বেড়েছে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফায় পিছিয়ে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে মুনাফা কমলেও প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়ছে। ২০১৭-১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। আর ২০১৬ সালের জুন শেষে তিতাস গ্যাসের আয় ছিল ১১ হাজার ৩৭৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল আট হাজার ২৭১ কোটি ১১ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয় বাড়লেও সব খরচ মিটিয়ে মুনাফায় পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান।
এদিকে আগের বছরের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ইপিএস অনেক কমে গেছে। ২০১৭-১৮ হিসাববছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল পাঁচ টাকা ১২ পয়সা। ২০১৭-১৮ সালে যা দাঁড়িয়েছে তিন টাকা ৪৩ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমে গেছে এক টাকা ৬৯ পয়সা।
তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-১৮ থেকে মার্চ ১৯) এসে তিতাস গ্যাসের আয় কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আগের বছর একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা।
যদিও ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের তিন প্রান্তিক (জুলাই-১৮ থেকে মার্চ ১৯) শেষে তিতাস গ্যাসের মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪৮ কোটি টাকা। একইভাবে এ সময়ে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ইপিএসও বেড়েছে। এ বছর শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৮৭ পয়সা, আগে যা ছিল দুই টাকা ৫২ পয়সা।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় তিতাস গ্যাস। এর মোট শেয়ারের মধ্যে ৭৫ শতাংশ রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। বাকি শেয়ারের মধ্যে আট দশমিক ৯৭ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং বিদেশিদের কাছে রয়েছে এক দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ আর্থিক বছরে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির শেয়ার ৩৭ থেকে ৩৮ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..