প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ধারাবাহিকের শেষ পর্ব: দেড় বছরেও চূড়ান্ত হয়নি দ্বিতীয় এলওসির ১২ প্রকল্প

 

ইসমাইল আলী: ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বিলিয়ন ডলার ঋণের (এলওসি) ঘোষণা আসে। সে সময় এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। দ্বিতীয় এলওসির আওতায় ১৪ প্রকল্পে এ ঋণ দেওয়ার কথা। তবে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ১২ প্রকল্প চূড়ান্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও এরই মধ্যে ৯টি প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে ভারত।

গত ২৯-৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এলওসির দশম পর্যালোচনা বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় দ্বিতীয় এলওসির শুরুতেই ধীরগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশকে দেওয়া ঋণ তদারকিতে ঢাকায় ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কার্যালয় খোলার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় এলওসির ঋণচুক্তির তিন বছরের মধ্যে ক্রয় প্রকল্প এবং পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণ ও পরামর্শক প্রকল্প বাস্তবায়নের শর্ত রয়েছে। গত ৯ মার্চ ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ। ২৭ মে থেকে এ চুক্তি কার্যকর করা হয়। অর্থাৎ ঋণচুক্তির ছয় মাস এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ও ট্রাক কেনার দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। বাকি ১২ প্রকল্প এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

যদিও ভারত দুই দফায় ৯ প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে। প্রথম দফায় অনুমোদন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিআরটিসির জন্য ৫০০ ট্রাক কেনায় দুই কোটি চার লাখ ডলার ঋণ দেবে ভারত। আর বিআরটিসির জন্য ৩০০ ডাবল ডেকার ও ১০০ সিঙ্গেল ডেকার নন-এসি এবং ১০০ এসি সিটি ও ১০০ এসি দূরপাল্লার বাস কেনায় পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এছাড়া আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন নির্মাণে ঋণ পাওয়া যাবে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আর সৈয়দপুরে কোচ তৈরিতে নতুন ওয়ার্কশপ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ ঋণ পাওয়া যাবে সাত কোটি তিন লাখ ডলার।

দ্বিতীয় দফায় অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি রেলওয়ের, একটি সড়ক ও একটি বিদ্যুৎ বিভাগের এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের। রেলওয়ের প্রকল্প দুটি হলো: খুলনা-দর্শনা ডাবল লাইন নির্মাণ ও পাবর্তীপুর-কাউনিয়া রেলপথ মিটার গেজ থেকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর। প্রকল্প দুটির ব্যয় হলো যথাক্রমে ৩৯ কোটি ৬০ লাখ ও ১৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এগুলোয় যথাক্রমে ৩১ কোটি ২৫ লাখ ও ১২ কোটি চার লাখ ডলার ঋণ দেবে এক্সিম ব্যাংক।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, দ্বিতীয় এলওসিতে রেলওয়ের তিনটি প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া গেছে। এগুলো চূড়ান্তে কাজ চলছে। দ্রুতই প্রকল্পগুলো একনেকে পাঠানো হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের জন্য যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় হবে সাত কোটি ৪২ লাখ ডলার, যার মধ্যে পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ ডলার দেবে এক্সিম ব্যাংক। বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ পাওয়া যাবে ২১ কোটি সাত লাখ ডলার। আর ভারতের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে ব্যয় হবে আট কোটি ৮২ লাখ ডলার। এর মধ্যে আট কোটি ৮০ লাখ ডলার দেবে ভারত।

সব মিলিয়ে ১২২ কোটি ১৫ লাখ ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ভারত। বাকি পাঁচ প্রকল্পে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও হাইটেক পার্ক স্থাপনে অর্থায়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ভারতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এ দুটি প্রকল্প এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি আশুগঞ্জে কনটেইনার ডিপো, চারটি মেডিক্যাল কলেজ ও আইটিবিষয়ক অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এখনও ভারতের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়নি।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বলেন, আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন ও সওজের জন্য যন্ত্রপাতি কেনার প্রকল্প এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দ্রুতই এটি একনেকে যাবে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশকে দুই দফায় ২৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার রাষ্ট্রীয় ঋণ (এলওসি) দিচ্ছে ভারত। এ ঋণ তদারকিতে বাংলাদেশে অফিস করতে যাচ্ছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এলওসির দশম পর্যালোচনা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ভারতের এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশে অফিস খুলতে সব ধরনের অনুমোদন সংগ্রহ করেছে। আশীষ কুমার সনিকে বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিজনেস ভিসা পেয়েছেন। তবে আশীষ কুমার সনি ও তার পরিবারকে এ-থ্রি বা এফএ-থি ভিসা ইস্যুর জন্য বৈঠকে অনুরোধ করে ভারত। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকের অন্য কর্মীদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।