দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ধারাবাহিক পতনে রেমিট্যান্স

বাড়ছে কর্মহীন প্রবাসীর সংখ্যা

শেখ আবু তালেব: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিকূল পরিবেশেও ইতিবাচক ধারায় ছিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। অর্থনীতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই সূচকের পতন শুরু হয়েছে ধারাবাহিকভাবে। একক মাস হিসেবে গত বছরের মে’র তুলনায় গত মে মাসে রেমিট্যান্স ১৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয়ের ওপর। গত মার্চ ও এপ্রিলের ধারাবাহিকতায় গত মে মাসেও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।

এ ধারা অব্যাহত থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত মে মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনার প্রভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহেও বড় ধরনের ভাটা পড়ে গেছে। শ্রমিকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয়। সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও ভয়াবহ আকারে কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান, গত জানুয়ারির আগে প্রায় প্রতিমাসেই রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ছিল। বিশেষ করে রেমিট্যান্সের ওপরে দুই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বেড়ে যায়। সেই রেমিট্যান্স প্রবাহ গত এপ্রিলে ২৪ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

এদিকে, গত বছরের একই মাসের তুলনায় রোজা ও ঈদের মাস গত মেতে রেমিট্যান্স কমেছে ৪১ কোটি ৩১ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় যা ২৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাসের প্রভাব ব্যাপকভাবে শুরুর আগের মাস গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। গত এপ্রিল মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা মাত্র ১০৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় যা ৩৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ কম।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব ব্যাপকভাবে শুরুর প্রথম মাস গত মার্চে রেমিট্যান্স ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ১২৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রেমিট্যান্স আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আসে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এদিকে আমাদের দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে অবস্থান করছেন। এদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থাকেন।

আর ইতালিতে বৈধ-অবৈধভাবে থাকেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব থাকা প্রবাসী আমির হোসেন জানান, তারা মূলত গত দেড় মাস ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। কোম্পানির পক্ষ থেকে চাল, ডালসহ কিছু তরিতরকারি দিয়ে গেছেন। এগুলো খেয়েই তারা ঘরের মধ্যে দিন যাপন করছেন, কাজ নেই। বসে বসে খাচ্ছেন। দেশ থেকে ঋণ করে সৌদি আরব এসেছেন। এভাবে কাজহীন বসে থাকলে ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। আমির হোসেনের মতো আরও অনেকেই আছেন যারা বেকার হয়ে ঘরে বসে আছেন।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একমাত্র সচল রাস্তা ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। কিন্তু রেমিট্যান্স প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতেও বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলোর আমদানির দায় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..