প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ধূমপানে সিসার জন্ম, অতঃপর মৃত্যু…

মানুষের শরীরের মধ্যে লেড বা সিসার জন্ম হয় হাড়ে। যেসব বস্তুর ব্যবহার বাদ দিলে অকাল মৃত্যুঝুঁকি কমানো যায়, সেগুলোর মধ্যে তামাক শীর্ষে। বিশ্বে যত লোক তামাক ব্যবহার করে তার প্রায় ৫০ শতাংশ এর ক্ষতিকর প্রভাবে মৃত্যুবরণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, প্রতিবছর সারাবিশ্বে প্রায় ৬০ লাখ লোক তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে মারা যায় (সর্বমোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশ); যার প্রায় ৬ লাখ পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার। বিংশ শতাব্দীতে তামাক প্রায় ১০ কোটি ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়েছে।

সাধারণত সিগারেটের মাধ্যমে এটি জš§ নেয়। একটি সিগারেটে  ০.৮ সমসীসা বা লেড থাকে; যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। অতিরিক্ত ধূমপায়ী এর অর্ধেকটাই শরীরে নিয়ে নেয়।

সব জিনিসের উপকারিতা ও অপকারিতা থাকে। কিন্তু ধূমপানের ক্ষেত্রে উপকারিতার কথা ভাবাটা বোকামি। অনেকে মনে করেন, ধূমপান পৌরুষের প্রতীক। কিন্তু বাস্তব তা ঠিক নয়। ধূমপায়ী পুরুষদের শুক্রাণু কমে যায়। দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে পুরুষত্বহীনতা ডেকে আনতে পারে। পুরুষদের বন্ধ্যত্ব অন্যতম কারণ ধূমপান।

নিকোটিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনেও শিশুর নিকটাত্মীয়রা অনেক সময় বাড়ির বারান্দায় ধূমপানরত অবস্থায় শিশুকে কোলে নেন। এতে শিশুর শরীরে সিগারেটের বিষ প্রবেশ করে। ধূমপানের পর জামাকাপড়ে ও ধূমপায়ীর শরীরে বিষাক্ত রাসায়ানিক থেকে যায় কমপক্ষে ঘণ্টা চারেক।

আজকাল অনেক নারীও ধূমপান করেন। এক্ষেত্রে তিনি যদি হন সন্তানসম্ভবা, তবে ধূমপান তার নিজের ও গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধূমপানের ফলে অপরিণত শিশু জন্ম নেয়, শিশুর আকৃতি অনেক ছোট হয় অথবা শিশু মারাও যেতে পারে।

একজন মা যখন ধূমপান করেন, তখন এ উপাদানগুলো তার রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। আর গর্ভস্থ শিশুর অক্সিজেন ও পুষ্টির একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই রক্ত, যা কিনা মায়ের ধূমপানের জন্য দূষিত হয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত দেখা যায়, ৯০ শতাংশ লোক ধূমপান ছাড়ার জন্য হঠাৎই ধূমপান বন্ধ করে দেন। এভাবে ৫ থেকে ৭ শতাংশ লোক সফল হন। বাকিরা হতাশ হয়ে আবার ধূমপান শুরু করেন। ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় হচ্ছে একটু সময় নেয়া এবং পরিবার-বন্ধুদের সহায়তা নেয়া। যেসব পণ্য ধূমপানের ইচ্ছা জাগায়, সেগুলো থেকে দূরে থাকাও জরুরি।

তারেক আল মুনতাছির

শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ

ওমরগণি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম