সম্পাদকীয়

ধূমপান প্রতিরোধ আইন প্রয়োগে কঠোরতা কাম্য

ধূমপানের ফলে ব্যক্তির যেমন ক্ষতি হয়, তেমনই তার অসতর্কতার কারণে জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকে সৃষ্ট আগুনে প্রতি বছর জান ও মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সব সিগারেটের প্যাকেটেই বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের ছবি থাকে, থাকে নানা সতর্কীকরণ ধূমপান ক্যানসার, হƒদরোগ ও ফুসফুসের রোগের কারণ প্রভৃতি। কিন্তু এটি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির বাইরেও নিজের ঘরবাড়ি ও দেশের সম্পদের জন্যও বড় হুমকি, এটিও উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে।  

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গত বছরের বার্ষিক পরিসংখ্যান মতে, দেশে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। এরপরে রয়েছে চুলার আগুন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিগারেটের আগুন। অন্তত ১৫ শতাংশ অগ্নিকাণ্ডের উৎস সিগারেটের টুকরো। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘১৫ শতাংশ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী সিগারেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকদের উদ্বিগ্ন করবে।

আমরা মনে করি, কার্যকারণ বিদ্যমান রেখে অগ্নিদুর্ঘটনা বিশেষ করে ধূমপানজনিত অগ্নিদুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। দেশে ধূমপান প্রতিরোধে যে আইন রয়েছে, সেটির বাস্তবায়নে না সাধারণ মানুষের যেমন সচেতনতা নেই, সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিরোধে উদ্যোগ নেই। আবার একটু অসচেতনতায় ভয়াবহ আগুনে জানমালের ক্ষতি হয়। ক্ষতি এড়াতে বিদ্যামান আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরমানা করলে সচেতনতা বাড়বে। নিয়ম না মেনে ধূমপানের জন্য জরিমানা যথানিয়মে আদায় করতে হবে। এটি করা গেলে সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

অন্য মাদক গ্রহণ করলেই শুধু মাদকাসক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ধূমপানে পরোক্ষভাবে ক্ষতি হয় সবাই। ধূমপানে আশেপাশে থাকা অধূমপায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধূমপান করলে দেশ রাজস্ব পায়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয় ধূমপানে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধে।

দেশে বেশি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে। এসব প্রতিষ্ঠানে ধূমপান আইন কার্যকরে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের তথ্যমতে, এসব অগ্নিদুর্ঘটনায় চার হাজার কোটি টাকার ওপর আর্থিক ক্ষতি হয়।

অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে ২০০৩ সালে প্রণীত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলে (এফসিটিসি)। (এফসিটিসিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ। ২০০৪ সালে অনুস্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। আইন পরিপালন নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। তামাকপণ্য ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে প্রধানমন্ত্রীও অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তামাকমুক্ত দেশ গড়ার পাশাপাশি অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..