সারা বাংলা

নওগাঁয় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট উদ্বোধন

প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রাজধানী থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সম্প্রতি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট চালু হওয়ায় তীব্র মাত্রায় অক্সিজেন সংকটে পড়া রোগীরা বিশেষ করে কভিড-১৯ আক্রান্ত জটিল রোগীদের সেবা দেয়া সহজ হবে।

হাসপাতালগুলোয় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজ কার্যালয় থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ। এছাড়া এ অনুষ্ঠানে নিজ কার্যালয় থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন নওগাঁর পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া ও সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ।

পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হামিদ রেজা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলার ইউএনও জয়া মারিয়া পেরেরা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাপাহারের ইউএনও কল্যাণ চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদগুলোর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির তহবিল থেকে হাসপাতালগুলোয় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনে খরচ হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে। ৩৬টি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার একসঙ্গে যুক্ত করে প্রত্যেকটি প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেক সিলিন্ডারে ছয় দশমিক আট ঘনমিটার অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে।

কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট থেকে প্রতিটি হাসপাতালে একসঙ্গে ১৮ জন করে রোগীকে অক্সিজেন দেয়া যাবে।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন হওয়ায় করোনা আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসাসেবা এখন অনেকটা সহজ হবে। সে সঙ্গে মৃত্যুহার কমে আসবে বলে চিকিৎসকেরা আশা করছেন।

পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, এই এলাকার সাংসদ ও মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এই প্রথম নওগাঁর তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হলো। এটা সত্যই অনন্য উদ্যোগ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর উপজেলা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু এসব টাকা প্রায় সময় স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার না ব্রিজ, কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করে হয়ে থাকে। বৈশিক করোনা সংকটের এই সময়ে মানুষের জীবন রক্ষার্থে সেই টাকা হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হলে সেটা দোষের কিছু নয়। বরং এটা একটি মহৎ উদ্যোগ। অনান্য জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালগুলোয় এ ধরনের অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের জন্য আহ্বান জানাই। এতে অনেক মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।’

অক্সিজেন সংকটে পড়া রোগী ও জটিল করোনা রোগীদের সেবার জন্য নওগাঁর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বাকি সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ প্লান্ট স্থাপন হয়নি। ফলে অক্সিজেন সংকটে পড়া রোগীসহ জটিল করোনা রোগীদের রাজশাহী ও বগুড়াসহ দেশের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..