প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নওগাঁয় নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল মহাসড়ক!

প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ এখনও চলমান। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা এলাকায় সড়কটির অর্ধেক অংশ প্রায় তিন ফুট গভীরে দেবে গেছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘœ  ঘটে। এ অবস্থায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ বলছে, কাজে অনিয়ম হয়নি। নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সড়কটি দেবে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ-নাটোর সাড়ে ৪৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ দুই ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। ২০০৫ সালে মন্ত্রণালয় ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়। কিন্তু পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সীমিত আকারে ৫০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নাটোরের নলডাঙ্গায় নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

ওই টাকায় প্রথম ধাপে ২০০৭ সালে নওগাঁর ঢাকার মোড় থেকে নাটোরের নলডাঙ্গা পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়, যেখানে নওগাঁর অংশে ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে সাত কিলোমিটার এবং নাটোর অংশে সাড়ে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়। নতুন করে অর্থায়ন না হওয়ায় ২৩ কিলোমিটার সড়ক পাকা হওয়ার পর হাইড্রোলজি সমীক্ষার নামে বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির নির্মাণকাজ। বাকি সাড়ে ২৫ কিলোমিটার সড়ক গো-চারণভূমিতে পরিণত হয়।

এরপর ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদনের পর সেতু ও কালভার্টসহ সাড়ে ২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মহাসড়কটির আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা এলাকায় প্যালাসাইডসহ সড়কের উত্তর পাশ দেবে গেছে। দুদিন আগে ফাটল দেখা দিলেও গত শনিবার সকালে মূল সড়ক থেকে আড়াই থেকে তিন ফুট দেবে গিয়ে প্রায় ১৫০ ফুট ধসে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘœ হচ্ছে। পাশের অংশে ইট দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শাহাগোলা গ্রামের সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণের সময় পাশের মাটি কেটে উঁচু করা হয়েছিল। সেখানে বেশ কাদামাটিও ছিল। তারপর বেশ কয়েক বছর পড়েছিল। দুই বছর থেকে আবারও সড়কটির কাজ শুরু হয়। ওই জায়গায় আবারও মাটি ফেলা হয়। সবশেষ সড়কটি পাকা করা হয়। সড়কটি দিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ভারী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু হঠাৎ করে সড়কটিতে ফাটল ধরে দেবে ধসে গেছে। মনে হচ্ছে নিচের নরম মাটিগুলো সরে গিয়ে সড়কটি বসে যাচ্ছে।’

একই গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, ‘কাজে অনিয়ম হওয়ায় সড়কটি হঠাৎ করেই ধসে গেছে। তাছাড়া তো এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আমাদের চলাচলে বিঘœ হচ্ছে। আমরা চাই সড়কটি মজবুত করে তৈরি করা হোক।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই ভালো সড়কটি নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা বিশেষ ধরনের ফল্ট (ত্রুটি)। এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কী কারণে এমনটা হয়েছে, আমরা তা দেখব।