আজকের পত্রিকা

নকল ওষুধ প্রতিরোধে কঠোর হওয়া জরুরি

সফিউল্লাহ আনসারী: মানুষের জীবন বাঁচাতে ওষুধ অতি প্রয়োজনীয়। জীবন রক্ষার জন্য ওষুধ সেবন করে যদি জীবন নাশ হয়, তখন চিকিৎসার কোনো মানেই থাকে না। অথচ আমার দেশে এ জঘন্য অন্যায় কাজটি অহরহ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ও বিবেকহীন ব্যবসায়ী। সরকারিভাবে অভিযানে প্রায়ই ধরা পড়ছে নকল ওষুধ। ধরাছোঁয়ার বাইরে বেশিরভাগ সময়ই থাকছে অপরাধীর সিন্ডিকেট। কয়েক দিন পর আবার পাইকারি বাজার হয়ে খুচরো দোকানে অতি সহজেই হুবহু প্যাকেট আর মোড়কে নকল ওষুধ চলে যাচ্ছে রোগীর কাছে। এই নকল ওষুধ জীবন বাঁচানোর নামে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের দামি জীবন। নকল ওষুধ সেবনে রোগ তো সারছেই না, বরং কখনও শোনা যায় মানুষের মৃত্যুর খবর। এমনটি কারও কাম্য নয়; তারপরও মানুষরূপী অসাধু চক্রটি আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। দ্রুত বিকাশমান ওষুধশিল্প আমাদের জন্য ভালো; কিন্তু নকল আর প্রাণঘাতী ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন শুধু অপরাধই নয়, অমানবিকও।
বাংলাদেশে রয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, আইনও আছে এবং ওষুধের দোকান মালিকদের সংগঠনও আছে ‘কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ নামে। তারপরও নকল ওষুধ কীভাবে বাজারে আসে এ প্রশ্ন প্রত্যেক সচেতন নাগরিক ও রোগীর। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ওয়াকিবহাল থাকার পরও ভেজাল-নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য দোকানেও। তারা মুখে বলছে নকলবিরোধী সোচ্চার থাকার কথা; অথচ অবৈধভাবে ব্যবসাও চলছে দেদার। ওষুধের পাইকারি ও বড় মার্কেট মিটফোর্ট থেকেই সারা দেশে নকল ওষুধের চালান যাচ্ছে বলে জানা গেছে। মিটফোর্টসহ সারা দেশে এ মুহূর্তে নকল ও নিম্নমানের ওষুধের ব্যাপকতা কতটা ভয়াবহ তা সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে না। কারণ, নকল ওষুধ চেনার উপায় তাদের জানা নেই। এটা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের জানানোর দায়িত্ব। না হলে মানুষ ঠকতেই থাকবে আর জীবন বাঁচানোর পরিবর্তে রোগীর জীবন বিপন্ন হবে।
‘বাংলাদেশে বছরে উৎপাদন হয় ২৫ হাজার রকমের ওষুধ, এর মধ্যে মাত্র চার হাজার ধরনের ওষুধ পরীক্ষা করে দেখার সামর্থ্য আছে সরকারের। আর এর দুই থেকে তিন শতাংশ ওষুধ ভেজাল, নকল বা নিম্নমানের। বাকি ২১ হাজার কখনও পরীক্ষাই করা হয় না।’(সংগৃহীত) তাহলে অনুমেয় যে, আমরা কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি নকল ওষুধ নামের ঘাতকের
কাছে। আর জিম্মি হয়ে আছে ক্রেতাসাধারণ! উপার্জিত কষ্টের টাকায় কেনা ওষুধ কিনে প্রতারিত হয়ে ভোক্তা অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। নকল ওষুধ প্রস্তুতকারকদের প্রতারণায় আর যেন কোনো রোগী না ঠকেন, সেদিকে সরকার কঠোর হবে এ প্রত্যাশা সবার। নাগরিক অধিকার চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আর চিকিৎসার মূল বিষয় হচ্ছে ওষুধ। নকল ওষুধ যেন কোনো দোকানে বিক্রি করতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। দেশের সব পর্যায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। জেলা পর্যায়ে বসে বসে তদারকি না করে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যন্ত ড্রাগ সুপার সততার সঙ্গে যেন দায়িত্ব পালন করেন, সেদিকে কঠোর নজরদারি দরকার। রোগী তথা ভোক্তাসাধারণের আরও সচেতনতা ও আমাদের চিকিৎকদের ওষুধের নাম লেখার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা অতীব জরুরি।
বাংলাদেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং বিতরণের অভিযোগ বহুদিনের। এ অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ জনগণ এবং রোগীদের দাবি, জনস্বাস্থ্যের জন্য শতভাগ শুদ্ধ মানের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করুন, যাতে আর একটি জীবনও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে। এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধ পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করাও জরুরি। সবার চাওয়া, কোনো মানুষ জীবন বাঁচাতে ওষুধ সেবন করে যেন প্রতারিত না হয় এবং আর মারা না যায়। নকল-ভেজাল ওষুধমুক্ত বাংলাদেশ, নিরাপদ জীবন আজ সময়ের দাবি।

গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..