প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নকল রোধে মোড়ক পাল্টাচ্ছে মিল্ক ভিটা

নাজমুল হুসাইন: চলতি বছরের মে মাসে সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার নকলকারী ১২ কোম্পানির  খোঁজ মেলে সরকারের। এসব প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার মতোই   দেখতে একই ধরনের মোড়কে তাদের তরল দুধ বাজারে বিক্রি করে। শুধু পাস্তুরিত তরল দুধই নয়, এমন সদৃশ্য মোড়কে আদলে নকল মিল্ক ভিটা বিক্রির ঘটনা ঘটছে প্রতিষ্ঠানটির অনেক পণ্যেই। এ অবস্থায় অবশেষে নিজেদেরই উৎপাদিত পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের মিল্ক ভিটা। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য নতুন মোড়কে বাজারজাত শুরু করেছে মিল্ক ভিটা। আর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে প্রায় সব পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিল্ক ভিটার সাদৃশ্য মোড়কে বহু কোম্পানি দুধ বাজারজাত করছে এখনও। এমন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়েছে সরকারকে। গত মে মাসে বাজার থেকে সংগ্রহ করে মিল্ক ভিটার মতোই সাতটি কোম্পানির দুধের প্যাকেট জমা দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে। সেই সঙ্গে ১২টি কোম্পানির সন্ধানও দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনও সে বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু উকিল নোটিশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে মোড়ক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিল্ক ভিটা।

ইতোমধ্যে টক, মিষ্টি দইসহ মাখন পরিবর্তিত মোড়কে বাজারজাত শুরু হয়েছে। আর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াধীর রয়েছে দুধ, ঘি ও রসমালাই। ক্রমান্বয়ে সব পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকির হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কয়েকটি পণ্যের মোড়ক পরিবর্তনের কার্যক্রম চলছে। আগামী মাসের মধ্যে বেশিরভাগ পণ্য নতুন মোড়কে বাজারে আসবে। তবে পাস্তুরিত দুধের মোড়ক পরিবর্তনই আসল টার্গেট হলেও তা সময় সাপেক্ষ।’

কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মিল্ক ভিটার তরল দুধের প্রতিদিন প্রচুর মোড়ক প্রয়োজন হয়। আর তা বার্ষিক চুক্তিতে টেন্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এতে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত নির্ধারিত মোড়ক সরবরাহের অর্ডার দেওয়া রয়েছে। এতে হঠাৎ করে তা পরিবর্তন করলে অনেক লোকসান গুনতে হবে প্রতিষ্ঠানকে। তাই জলদি তা সম্ভব হচ্ছে না। আর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ প্যাটেন্ট অনুমোদনেও সময় প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিল্ক ভিটার প্যাকেটের ডিজাইন ক্রেতার কাছে বহু পরিচিত হয়ে গেছে, তাই দুধের মোড়কের এক পার্শ্বে একই ধরনের রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিপরীত পার্শে^ এমন ধরনের পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে, যা সহজেই নকল করা সম্ভব হবে না। আর ক্রেতা বিভ্রান্তিও কমে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে বাজারের আফতাব, ডেইরি ফ্রেশ, ঢাকা প্রাইম, মিল্ক ফ্রেশ, আল্ট্রা মিল্ক, রিয়াল মিল্ক ও পিউরা মিল্ক তাদের দুধ মিল্ক ভিটার মোড়কের আদলেই বিক্রি করে বলে জানানো হয়। সেসব কোম্পানির মোড়কের আকার, আয়তন ছাড়াও এতে রঙের ব্যবহারও এক। যাদের অধিকাংশই এখনও বাজারে দুধ বিক্রি করছে। এর মধ্যে তাদের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুধু আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কী প্রক্রিয়াতে এসব নকল দুধ তৈরি হচ্ছে এবং তা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

মিল্ক ভিটার মতো করে প্যাকেট তৈরি করে কোম্পানিগুলো বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে। এতে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতা; অন্যদিকে পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মিল্ক ভিটা। কমছে তাদের বিক্রি। কারণ ক্রেতারা সেসব নকল দুধ কিনছেন মিল্ক ভিটা নামেই। শুধু তরল দুধই নয়, একই রকম সাদৃশ্য মোড়কে ও পাত্রে আরও অনেক মিল্ক ভিটার দুগ্ধপণ্য নকল করে বাজারে বিক্রি করে অসাধু ক্রেতারা।

১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাটে গুঁড়োদুধের কারখানা স্থাপন করে মিল্ক ভিটা। বর্তমানে মিল্ক ভিটা পাস্তুরিত তরল দুধ ও গুঁড়োদুধ উৎপাদনের পাশাপাশি মাখন, ঘি, টক দই, মিষ্টি দই, রসমালাই, কনডেন্সড মিল্কসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে। প্রতিদিন বাজারে প্রায় দেড় লাখ লিটার পাস্তুরিত দুধ সরবরাহ করছে কোম্পানিটি।