প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নকশিকাঁথায় বদলে গেছে মাগুরার রায়গ্রাম

 

ইমাম জাফর, মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলার রায়গ্রাম বদলে গেছে নকশিকাঁথায়। গ্রামের নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি তৈরি করছেন নকশিকাঁথা। যা রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে রায়গ্রামের শতাধিক দুস্থ নারী নকশিকাঁথা তৈরি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখন গ্রামের শতাধিক নারী এ পেশায় নিয়োজিত। তারা সংসার সামলানোর পাশাপাশি নকশিকাঁথা তৈরি করেন। চার-পাঁচজন মিলে সপ্তাহে একটি নকশিকাঁথা তৈরি করেন। নকশিকাঁথা সেলাইয়ের জন্য বিভিন্ন রঙের রঙিন সুতা ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি কাঁথায় সুচ-সুতার সুন্দর বুননের মধ্যে ফুটে ওঠে ফুল-পাতা, লতা-গাছ, চাঁদ-তারা, পশু-পাখির সুন্দর সুন্দর নকশা। কাঁথা সেলাই শেষ হলে বিক্রির জন্য তাদের বাইরে যেতে হয় না। ব্র্যাকের আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন প্রতিটি কাঁথা সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনে নিয়ে রাজধানীসহ দেশের অভিজাত শপিংমলে বিক্রির ব্যবস্থা করে।

গ্রামীণ নারীদের নকশিকাঁথা সেলাইয়ের বিভিন্ন রঙিন সুতা, সুচ, কাপড় ও অন্যান্য উপকরণ এ ফাউন্ডেশন সরবরাহ করে থাকে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ব্র্যাকের আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি রায়গ্রামের কয়েকজন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শুরু করেছিল নকশিকাঁথা তৈরির কাজ। এখন গ্রামের শতাধিক নারী এ পেশায় জড়িত। কাঁথা সেলাই করে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি সংসারের উন্নয়নেও অবদান রাখছেন।

কাঁথার কারিগর নূরজাহান জানান, তিনি দুবছর যাবৎ নকশিকাঁথা শিল্পের সঙ্গে জড়িত। নকশিকাঁথা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সংসার চালাচ্ছেন। তাছাড়া এ অর্থ দিয়ে তিনি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচও বহন করছেন। কাঁথা তৈরির সঙ্গে জড়িত জ্যোৎস্না বেগম ও শাহিদা জানান, সংসারের কাজ সামলে অবসর সময় তারা নকশিকাঁথা সেলাই করেন। কাঁথা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ ব্র্যাকের আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন সরবরাহ করে থাকে। কাঁথা প্রস্তুত হওয়ার পর তা বিক্রির জন্য আমাদের বাইরে যেতে হয় না। ফাউন্ডেশনই নগদ অর্থে কিনে নিয়ে যায়। কাঁথাপ্রতি তারা চার হাজার ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। ওই টাকা পাওয়ার পর আমরা ভাগ করে নেয়। বর্তমানে গ্রামের অনেক নারী এই পেশায় জড়িয়েছেন।

ব্র্যাকের কর্মকর্তা নূর কামাল জানান, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্র্যাক নানামুখী কাজ করছে। তার মধ্যে নকশিকাঁথা তৈরির কাজ ব্র্যাক ৩০ বছর ধরে করছে। গ্রামীণ নারীদের নিপুণ হাতে তৈরি এই নকশিকাঁথা গ্রাম থেকে কিনে ঢাকার অভিজাত দোকান আড়ংসহ বিভিন্ন  আধুনিক শপিংমলে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়েছে। তারা ঢাকার পাশাপাশি বাইরের জেলাগুলোয়ও নকশিকাঁথা বিক্রির কাজ শুরু করেছেন।

মাগুরা জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি রোকেয়া বেগম জানান, ব্র্যাক যেসব সৃজনশীল কাজ করে, তার মধ্যে নকশিকাঁথা অন্যতম। গ্রামীণ নারীরা অনেক পরিশ্রম করে এই নকশিকাঁথা সেলাই করেন। তারা সবাই ব্র্র্যাকের পল্লিসমাজের সদস্য। মাগুরার রায়গ্রামের অনেক নারী এ পেশাকে বেছে নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও নারী এ পেশায় এগিয়ে আসবেন।