প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নখ কামড়ানো

মানসিক বা স্নায়বিক চাপের কারণে অনেকে দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। এ অভ্যাসে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাঁত ভেঙেও যেতে পারে। কখনও চোয়ালে ব্যথার কারণও হতে পারে ক্ষতিকর এই অভ্যাস। নিয়মিত নখ কাটা, পরিষ্কার রাখা ও চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবানোর অভ্যাস এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

শক্তভাবে ব্রাশ করা: দিনে দুবার দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ভালোভাবে পরিষ্কারের চিন্তা থেকে জোরে বা শক্তভাবে ব্রাশ করেন। কেউ কেউ শক্ত ব্রেসেলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করেন। এটা দাঁতের এনামেলের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

দাঁতে দাঁত ঘষা: অনেকে ঘুমের ভেতর দাঁতে দাঁত ঘষেন। এজন্য দাঁতে ফাটল হতে পারে। এতে দাঁতে ক্যাভিটির ঝুঁকিও রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে জেগে চোয়ালব্যথা, মাথাব্যথা অনুভব করতে পারেন। মুখের ভেতর গাল কেটে যেতে পারে। এ ধরনের অভ্যাস থাকলে ঘুমের সময় মাউথ গার্ড ব্যবহার করুন। এজন্য দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চকলেট, কফি ও ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলুন।

বরফ কামড়ে খাওয়া: দাঁতের এনামেল ও বরফ দুটোই ক্রিস্টাল। দুটি ক্রিস্টাল একে অপরকে ধাক্কা দিলে যেকোনো একটি ভেঙে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বরফ ভাঙে, কারণ দাঁত অপেক্ষাকৃত শক্ত। তবে কখনও কখনও দাঁতও ভেঙে যেতে পারে, ফাটল ধরতে পারে বা দাঁতে ফিলিং থাকলে তা ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া দাঁতের ওপরের এনামেলের আস্তর নষ্ট করে বরফ। প্রয়োজনে বরফ ছাড়া ঠাণ্ডা পানি খান। ঠাণ্ডা পানীয় খেতে অবশ্যই স্ট্র ব্যবহার করুন।

সব সময় কিছু না কিছু চিবানোর অভ্যাস, বিশেষ করে চিনিযুক্ত খাবার এবং ঠাণ্ডা পানীয় দাঁতে ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। কেননা, ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মুখের ভেতর থাকা অবশিষ্ট খাবার খায় এবং অ্যাসিড তৈরি করে, যা আপনার দাঁতের এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চিনিযুক্ত খাবারের অভ্যাস ছাড়তে না পারলে খাবার পর কুলকুচি করুন।

অনেক সময় হাতের কাছে ছুরি, কাঁচি না পেয়ে দাঁত দিয়েই কাটা-ছেঁড়ার কাজ করেন কেউ কেউ। বোতলের ছিপি খুলতেও দাঁত ব্যবহার করা হয়। এতে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা চোয়ালে আঘাত পেতে পারেন। দাঁত দিয়ে সুতা কাটা, বা ধাতব কিছু বা কোনো শক্ত জিনিস কামড়ানো যাবে না।

ডা. শারমীন জামান

ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন

ফরাজি ডেন্টাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা