Print Date & Time : 28 September 2021 Tuesday 12:36 pm

নগরে খেলার মাঠ, পার্ক ও উম্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের আহ্বান

প্রকাশ: July 18, 2021 সময়- 11:40 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা সিটি করপোরেশনে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। নেই খোলা জায়গা ও পার্ক; যা রয়েছে তা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। রাজউকের জরিপ থেকে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৭টিতে কোনো খেলার মাঠ কিংবা পার্ক নেই। এতে শিশুদের, বিশেষত মেয়েশিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়টি বিবেচনায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৪০টি মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়নের কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিককালে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা মাঠ-পার্ক সংরক্ষণ বা উন্নয়নের পরিপন্থি। যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে মাঠ-পার্ককে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন।

গতকাল ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘নগরে খেলার মাঠ, পার্ক ও উম্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতার।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৭টিতেই নেই কোনো খেলার মাঠ বা পার্ক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত খেলার মাঠটি জরাজীর্ণভাবে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। পার্ক ও খেলার মাঠে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র মানুষসহ সবার প্রবেশগম্যতা অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নগরবাসীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লক আকারে মাঠ-পার্ক তৈরি করা যেতে পারে। পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন কালে অনেক সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে বাণিজ্যিক অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে ভূমিজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফারহানা রশীদ তনু বলেন, মাঠ-পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের আগে ব্যবস্থাপনার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান)  সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরে অবস্থিত পার্ক ও খেলার মাঠে কোনো প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতা নেই। নগর উন্নয়নেও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতার বিষয়টি তেমন দেখা যাচ্ছে না। যেসব মাঠ-পার্ক সংস্কার করা হচ্ছে, সেখানে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম বলেন, নগরে বৃহৎ আকারে পাবলিক স্পেস বিষয়ে আমরাও চিন্তা করছি। তবে সে ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিএসসিসি’র আওতাধীন সব মাঠ, পার্ক সকলের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে। নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মাঠ, পার্কের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবার কথা মাথায় রেখে নগর উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে।

উম্মুক্ত স্থানগুলো নারীরা যাতে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে। নগরের যেসব স্থানে মাঠ, পার্ক নেই সেখানে কীভাবে মাঠ, পার্ক তৈরি করা যায় সে বিষয়ে করপোরেশনকে উদ্যোগী হতে হবে।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাফের নির্বাহী পরিচালক মীর আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমএ মান্নান মনির, ধ্রুব তারা যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক অর্ক চৌধুরী, ডিজেবিলিটি ডিফারেন্ট প্রোগ্রামের (ডিডিপি) প্রতিষ্ঠাতা মো. জাকির হোসেনসহ প্রমুখ।