প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

নজরদারিতে ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পতনের বাজারেও দর বৃদ্ধির দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছে কিছু ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। প্রায় সারা বছরই এমন ধরনের কিছু কোম্পানির আধিপত্য লক্ষ করা যায়। কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্তর থাকে তাদের কাছে দর বৃদ্ধির পাওয়ার কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। সম্প্রতি এসব কোম্পানির প্রতি নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ ধরনের কোম্পানি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।
জানা যায়, পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে এক বছর বা এর বেশি সময় ধরে অবস্থানরত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির পরিচালক মো. মনসুর রহমানকে, কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামকে এবং অপর সদস্য করা হয়েছে সংস্থাটির উপ-পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে।
এ কমিটি ‘জেড’ ক্যাটেগরি নিয়ে ২০০২ সালে জারি করা নোটিফিকেশনের ওপর আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। ২০০২ সালের নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এক বছর বা এর বেশি সময় ধরে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে থাকা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে পুনর্গঠিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিষয়টি আইনে থাকলেও বাস্তবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কমিটি।
সূত্র জানায়, নজরদারিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যায়ক্রমে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা করা হবে পুঁজিবাজারের স্বার্থে, কারণ এ ধরনের কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ধরনের কোম্পানিতে কারসাজিও বেশি হয়। সে কারণে বিএসইসি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ডিএসই থেকে এ ধরনের কিছু কোম্পানির তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকায় রয়েছে ইমাম বাটন, মেঘনা পিইটি, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, প্রাইম টেক্সটাইল, জুট স্পিনার্স, শ্যামপুর সুগার, জিলবাংলা সুগার, এপেক্স ফুডস, এইচ আর টেক্সটাইল, সমতা লেদারসহ আরও কিছু কোম্পানি।
এর আগে গত ১৮ জুলাই দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংকে তালিকাচ্যুত (ডিলিস্টিং) করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। নিকট ভবিষ্যতে কোম্পানি দুটির উৎপাদন শুরু করার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, বাজারে যারা কারসাজি করে তাদের নজর থাকে স্বল্প মূলধনি এবং ‘জেড’ ও কম শেয়ার রয়েছে এমন কোম্পানির দিকে। কারণ এসব কোম্পানি অপেক্ষাকৃত কম পুঁজি নিয়ে তারা গেম করতে পারে। আর তাদের ফাঁদে পা দেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সবশেষে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ব্যাপারে বিএসইসির হস্তক্ষেপ অবশ্যই জরুরি।
একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কারণ ছাড়া যেসব শেয়ারদর বাড়ছে, তার সবই হচ্ছে কারসাজির মাধ্যমে। এর বেশিরভাগই জেড ক্যাটেগরির শেয়ার। এর বেশিরভাগের সঙ্গে কোম্পানির লোক জড়িয়ে আছে। ফায়দা হাসিল করে তারা এসব শেয়ার ছেড়ে চলে যায়। বিএসইসি যদি এসব কোম্পানির বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, তাহলে এসব কোম্পানিতে কারসাজির পরিমাণ কমবে।

সর্বশেষ..