নজরদারি বাড়িয়ে সহনীয় রাখুন নিত্যপণ্যের দাম

কভিডকালে অনেকের আয় কমেছে। প্রভাব পড়েছে সীমিত ও নি¤œ আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায়। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে তাদের কষ্ট আরও বাড়ে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর ছুতা খোঁজে। দাম বাড়ার আগেই দাম বাড়িয়ে দেয়। আগে কম দামে কেনা পণ্য মওকামতো দাম বাড়িয়ে দেয়। ক্ষেত্রবিশেষে সংঘবদ্ধ হয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। কারণে-অকারণে দাম বাড়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা। নিয়মিত বাজার তদারকি করা গেলে এ প্রবণতা কিছুটা হলেও কমত।

গতকাল শেয়ার বিজের ‘সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ডিম-মুরগির’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। দাম বেড়েছে ডিমের। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

সাধারণ মানুষ মুরগি ও ডিম দিয়ে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করছে। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা খরচ কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এটি ক্রেতাসাধারণের নাগালে রাখতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা জানি, খুব কম দামেই পণ্য বিক্রি করেন সবজিচাষিরা। কিন্তু রাজধানীতে সবজির দাম বেশি। সরবরাহকারী ও পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, পণ্য আনার পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হয় তাদের। তাদের দাবি অমূলক নয়, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে।  এটি পর্যবেক্ষণপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদাবাজরা যাতে রাজনৈতিক নেতা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্রয় না পায়।

রাষ্ট্রও সরবরাহ-শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে নজরদারি করতে পারে। উৎপাদক, সরবরাহকারী, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার যেন বাইরে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী না থাকে। স্তরসংখ্যা বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে। প্রতিটি স্তরেই চাঁদাবাজি হয়। এটি বন্ধ করা গেলে কাঁচা তরকারি পণ্যের দাম কমানো সম্ভব।

সবজিপণ্যের রুটগুলোয় চাঁদাবাজি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বিভিন্ন স্থানে পণ্যের দাম যাচাইয়ে তদারকি অভিযান পরিচালনা করলে পণ্যের দাম কমবে বলেই ধারণা। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি ও বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে। সাশ্রয়ী  দামে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে ডিলারের অনিয়মের শিকার না হন, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রায়ই ভোর ৬টায় পণ্য কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হয় সাধারণ মানুষ। অথচ ডিলারের পরিচিতরা জোর করে লাইনে ঢুকে পণ্য কিনে। অনেক সময় ডিলাররা টিসিবির পণ্য দোকানদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম রোধে প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

সর্বশেষ..