প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নতুন উচ্চতায় জাপানের পুঁজিবাজার  

শেয়ার বিজ ডেস্ক : টানা তৃতীয়বারের মতো জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শিনজো আবে। ফলে তার অর্থনৈতিক নীতি অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এতে গতকাল সোমবার প্রভাব পড়েছে জাপানের পুঁজিবাজারে। ১৯৯৬ সালের পর এদিন পুঁজিবাজারের সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। খবর বিবিসি।

গতকাল নিক্কেই ২২৫ সূচক ২৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৬৯৬ দশমিক ছয় পয়েন্টে পৌঁছায়। এদিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মূল্য তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন নেমে আসে, যা পুঁজিবাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে ভ‚মিকা রেখেছে।

ইয়েনের কম দামের প্রবণতা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে কম মূল্যে পণ্য দিতে পারছে তারা। এতে পণ্যের রফতানিতে ইতিবাচক ভূমিকা পড়ছে।

এছাড়া বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেও জাপানের পুঁজিবাজার ওঠানামা করে। গত বিশ্ববাজারের ঊর্ধ্বমুখিতাও ছিল দেশটির পুঁজিবাজারের রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর অন্যতম কারণ। দেশটির অন্যতম বড় কোম্পানি নিশান, মিতসুবিসি ও সনির মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর লেনদেনের শুরুতেই বাড়তে থাকে। তবে আসন্ন টাইফুনের কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখায় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটার শেয়ারদর গতকাল কিছুটা কমেছে।

গত রোববার দেশের আগাম সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩১২টি আসনে জয় পেয়েছে আবে নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তাদের শরিক কুমেতো।

এর আগে ২০১২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন একসময়কার কোবে স্টিল কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে কাজ  করে আসা আবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিনজো আবেই দেশটিতে সর্বাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। রোববারের এই নির্বাচনের বুথ-ফেরত জরিপের ফলাফলেও আবের জোটই যে জয়লাভ করবে তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে শিনজো আবের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন তিনি।

আবের এ জয়ের ফলে জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার পরিকল্পনা আবেনোমিক্স আগের মতোই পরিচালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক ধস এবং দুটি দুর্নীতি কেলেঙ্কারির অভিযোগে আবে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জনগণকে দেওয়া আবের প্রতিশ্রæতি এবং বেশ কিছু কার্যক্রমের কারণে তার জনপ্রিয়তা আবার বাড়তে শুরু করে। পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমাগত হুমকির মুখে নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন আবে।

দৃঢ়ভাবে উত্তর কোরিয়াকে দমন করার প্রতিশ্রæতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন আবে। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের কাছে এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের জনগণের সুরক্ষা এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব ঐক্য গড়তে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে সরকার।’

এবারের নির্বাচনে শিনজো আবে বয়স্কদের জন্য সুরক্ষা ও উত্তর কোরিয়াকে দমন করার প্রত্যয়ে প্রচারণা চালান।