সম্পাদকীয়

নতুন উদ্ভাবিত সূর্যমুখী চাষে কৃষককে উৎসাহ জোগান

২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের প্রবেশ ঘটবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেক সুবিধা ও ছাড় পায় না। স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলোকে সাহায্য না করে ওই সহায়তা দেওয়া হয় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সম্মান ও আত্মমর্যাদার, কিন্তু সে মর্যাদা ধরে রাখা আমাদের মতো দেশের জন্য চ্যালেঞ্জই বটে। বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবেশ-পরিস্থিতি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনুকূল নয়। তাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও সব উৎসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনশক্তিসহ সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য শিল্প, কৃষি, মৎস্য প্রভৃতি খাতে উন্নততর গবেষণা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশ ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নতুন জাতের সূর্যমুখী চাষে বিজ্ঞানীদের সফলতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন আশার পথ দেখাবে। খবরে বলা হয়, খাটো নতুন জাতের বারি-৩ সূর্যমুখী ফুল চাষ করে কৃষকপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। মানবদেহের জন্য উপকারী লিনোলিক এসিড সমৃদ্ধ, হƒদরোগ ও ক্যানসার প্রতিষেধক এবং মহিলাদের বন্ধ্যত্ব দূরীকরণ ছাড়াও ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য অধিক উপকারী বারি সূর্যমুখী-৩।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিষেধক গুণসম্পন্ন এ সূর্যমুখী বীজে তেলের পরিমাণ ৪০-৪৫  শতাংশ। এতে ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নেই। এছাড়া সূর্যমুখী তেল মানুষের রক্তের কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

আমরা জানি, নানা কারণে অনেক দেশ এলডিসির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সমস্যায় পড়েছে। তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে; রপ্তানি, বিদেশি সহায়তা, রেমিট্যান্সও কমেছে। তাই আমাদের সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাগতে হবে। সব বাধা ও সমস্যা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখনই  প্রস্তুতি নিতে হবে।  দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। দেশে কয়েকটি সূর্যমুখী তেলের কারখানা স্থাপিত হলেও কাঁচামালের অভাবে সেগুলো পুরোদমে উৎপাদন করতে পারছে না। সূর্যমুখী  ফুল চাষ বাড়ানো গেলে সানফ্লাওয়ার অয়েল আমদানি করতে হবে না। রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের সাশ্রয় হবে।

বিপুল অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। বিশেষ কোনো খাতের ওপর অধিক নির্ভর না করে রপ্তানিপণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে দেশব্যাপী বারি-৩ সূর্যমুখী ফুল চাষ ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতি বছর মসলা আমদানিতে বিপুল অর্থ খরচ হয়। মসলা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন আমাদের চাষিরা। তাদের উৎসাহিত করতে হবে। মসলা গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..