Print Date & Time : 27 September 2021 Monday 10:58 am

নতুন এ জাতে দিন বদলাবে আখচাষিদের

প্রকাশ: July 2, 2021 সময়- 09:16 pm

রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ: উচ্চ ফলনশীল ও অধিক চিনি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন জাতের আখ উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) বিজ্ঞানীরা। এর নাম দেয়া হয়েছে বিএসআরআই আখ-৪৮।

বিএসআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৫তম সভায় এ জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, নতুন জাতের আখে চিনি ধারণক্ষমতা ১২ দশমিক শূন্য ছয় থেকে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ এবং গুড় আহরণ হার ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চেকজাত ঈশ্বরদী-৩৯ থেকে যা যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৩৮ ও শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। নতুন জাতটি স্মার্ট ও উইল্ট রোগ প্রতিরোধী। এতে লালপচা রোগ দেখা যায় না। চেকজাত ঈশ্বরদী-৩৯ থেকে প্রতি হেক্টরে পাওয়া যায় ৯০ দশমিক ৭৮ থেকে ১১৩ দশমিক ১৩ টন আখ। অন্যদিকে নতুন জাত থেকে প্রতি হেক্টরে ৯৩ দশমিক ৫০ থেকে ১২১ দশমিক ৫২ টন আখ পাওয়া যাবে।

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আখচাষি আনিস মিয়া শেয়ার বিজকে বলেন, নতুন এ জাতটি উদ্ভাবনে আমরা খুব আশাবাদী। এতদিন আখ চাষ করে অনেককে লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে আখ চাষ করে পথে বসেছেন। এখন হয় তো এ জাত আবাদ করে আমরা লাভবান হতে পারব।

কৃষক মহিরুল আলম বলেন, এ জাতের আখের পাতায় ধার কম থাকায় মাঠের শ্রমিকরা অনায়াসে ক্ষেতে কাজ করতে পারেন। ফলে এ আখক্ষেতে শ্রমিকের ঘাটতি হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, আখের পাতায় ধার বেশি থাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ কারণে আখের পাতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলনও হয় কম।

২০০৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি জাতের আখ সংকরায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ক্লোনটিকে পুনরায় নিজেদের মধ্যে সংকরায়ন করে ২০১১ সালে আই ১১১/১১ ক্লোনটি নির্বাচিত করা হয়।

এরপর প্রাথমিক ফলন পরীক্ষা, অগ্রবর্তী ফলন পরীক্ষা ও আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি গবেষণার মাধ্যমে একে নতুন জাত হিসেবে অবমুক্তির জন্য নির্বাচন করা হয়। জাতীয় বীজ বোর্ডের জাত অবমুক্তির ওই সভায় সব সদস্যের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে জাতটি অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার জাতটির প্রশংসা করেন।

ঈশ্বরদী সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক সঞ্জিত কুমার পাল শেয়ার বিজকে বলেন, আখের নতুন এ জাতটি উদ্ভাবনের মাধ্যমে সুগার মিলের পাশাপাশি আখচাষিরাও ব্যাপক লাভবান হবেন। এ জাতের আখচাষে ব্যাপক সুবিধা। একদিকে শ্রমিক কম লাগবে অন্যদিকে ফলন বেশি হবে। দেশে চিনির ঘাটতি মিটবে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জাল ইসলাম শেয়ার বিজকে জানান, এ জাতের দানা মোটা। পাতায় ধার কম হওয়ায় কৃষক আবাদে আগ্রহী হবেন। এটি চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বেশি উপযোগী।