বিশ্ব বাণিজ্য

নতুন করে শুল্কারোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ভুল শুল্কারোপ’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে চীন। এছাড়া নতুন শুল্কারোপের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বেইজিং বলেছে, নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বেগবান করতে পারে। আগামী মাস থেকে নতুন করে চীনা পণ্যে শুল্কারোপের পরিকল্পনার কথা ওয়াশিংটন জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ধরনের বক্তব্য এলো। এছাড়া হংকং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দিয়েছে চীন। খবর: রয়টার্স।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করা হতে পারে। নতুন করে শুল্কারোপ কার্যকর হলে তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিযোগ্য প্রায় সব চীনা পণ্য এর আওতায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পরে সেলফোন, ল্যাপটপসহ কিছু পণ্যের শুল্কারোপ আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ছুটির সময়ের বিক্রিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ব্যাপারে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও ফেং সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কিছু চীনা পণ্যে শুল্কারোপ বিলম্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যদি বিরোধিতা অব্যাহত রাখে এবং নতুন করে শুল্কারোপ করে, তাহলে চীনও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
পরবর্তী বাণিজ্য আলোচনায় অংশ নিতে চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ হে’র যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে জাও বলেছেন, উভয় পক্ষের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এ সময় হংকং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলার সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, হংকং চীনের অংশ। সুতরাং এটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্যে অনড় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যদিও ১৯৮৯ সালের তিয়েন আনমেন স্কয়ারের কথা স্মরণ করে হংকংয়ের বিক্ষোভের বিষয়েও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুল্কারোপ নিয়ে চীন এমন এক সময় হুশিয়ারি উচ্চারণ করল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা ঝুঁকি এড়াতে নতুন করে কর হ্রাস করার কথা জানানো হয়েছে। বর্তমানের ছয় দশমিক দুই শতাংশ বেতন-কর কমিয়ে চার দশমিক দুই শতাংশ করার কথা ভাবছ ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে মন্দাবস্থার সম্ভাবনার জন্য ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান জেরোমি পাওয়েলকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। অধিকাংশ মার্কিন অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ২০২১ সালে মার্কিন অর্থনীতি মন্দাবস্থার কবলে পড়বে।
তাদের অনেকের মতে, চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই মন্দাবস্থা প্রকট হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের জন্য সেটাই এখন মাথাব্যথার প্রধান কারণ। এছাড়া অধিকাংশ পর্যবেক্ষক এ বিষয়ে একমত, মার্কিন অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তার প্রধান কারণ চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ।

সর্বশেষ..