মার্কেটওয়াচ

নতুন নতুন আইন করলেই বাজার স্থিতিশীল হবে না

পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নতুন নতুন অনেক আইন হচ্ছে। আইন তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। যে আইনটি করা হচ্ছে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি নতুন আইন তৈরি করেই যায় কিন্তু বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে আইন করে লাভ হবে না। দেখা যায়, যখনই বাজারে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়; তখনই আইন তৈরি করা হয়। এভাবে বাজার স্থিতিশীল করা যাবে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসই’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান এবং বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী।
মো. রকিবুর রহমান বলেন, বিএসইসির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীকে সুরক্ষা দেওয়া। বিনিয়োগকারী ছাড়া অন্য কাউকে সুরক্ষা নয়। বিনিয়োগকারীরা বলেন, আমরা কোন কোম্পানিতে, কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করব সেটি আমাদের ব্যাপার। কিন্তু আমরা বিনিয়োগ করার পর যখনই শুনি কোম্পানিগুলো বিভিন্নভাবে কারসাজি করে, তখনই আমাদের কাছে খারাপ লাগে। এখানেই বিএসইসিকে ভালোভাবে নজরদারি করতে হবে। আবার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সম্পদ ব্যবস্থাপক, ফান্ড ম্যানেজার ও স্পন্সর, ব্রোকারেজ হাউজ, ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন কথা হচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজ, ডিলার এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কোনো অপরাধ করলে সহজেই বিচারের আওতায় আনা যায়। কিন্তু এতে কোনো কাজ হবে না। ক্ষমতাবান বিশেষ করে স্পন্সর এবং ফান্ড ম্যানেজারদের কতটুকু শাস্তি দিতে পারছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের ওপরই বাজারের ভালো-মন্দ নির্ভর করে। বিগত বছরে বাজারে যতগুলো অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে বেশিরভাগই স্পন্সরদের কারণে। গত কয়েক বছরে যেসব কোম্পানি বাজারে এসেছে তাদের অধিকাংশই প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে বাণিজ্য করেছে। এদের চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যখন কোনো কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তখন ওই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ভালো করে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে কোনো অডিট ফার্ম দ্বারা করা হয়েছে কি না এবং কোম্পানির সম্পদ ঠিক আছে কি নাÑতা যাচাই করতে হবে। এ জন্য ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) করা হয়েছে। এটি বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে রয়েছে।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন উপায়ে কারসাজি হচ্ছে, কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি হচ্ছে না। বিশেষ করে যারা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ বা এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধরে রাখছে না, তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আইনে কী বলা আছে, সেটি পরিষ্কার করে বলতে হবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। আবার এদের শাস্তি না দিয়ে বিভিন্নভাবে কোম্পানিগুলোর বোনাস শেয়ারে বিভিন্ন ধরনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একটি কোম্পানি অবসায়ন করা হয়েছে। ওই কোম্পানি থেকে যারা ঋণ নিয়েছে এবং পরে ঋণকৃত অর্থ ফেরত না আসায় কোম্পানিটি একপর্যায়ে তারল্য সংকটে পরে। ফলে কোম্পানিটি অবসায়ন করা হয়েছে। যারা ঋণ দিয়েছে এবং যারা অর্থ ফেরত দেয়নি তারাই মূল অপরাধ করেছে। কথা হচ্ছে যারা অর্থ দিয়েছে ও নিয়েছে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বাজারে একটি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত নতুন নতুন অনেক আইন হচ্ছে। আইন তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। যে আইনটি করা হচ্ছে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি নতুন নতুন আইন করে যায়, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে আইন করে লাভ হবে না। দেখা যায় যখন বাজারে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় তখনই আইন তৈরি করা হয়। এভাবে বাজার স্থিতিশীল করা যাবে না।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..