প্রচ্ছদ শেষ পাতা সাক্ষাৎকার

‘নতুন প্রকল্প ও আধুনিকায়নের সুফল পাবেন বিনিয়োগকারীরা’

পুঁজিবাজারে ভ্রমণ খাতের কোম্পানি দ্য পেনিনসুলা চিটাগং। কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থ নতুন প্রকল্পসহ ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যয় করছে। হোটেল দ্য পেনিনসুলা চিটাগংয়ের আধুনিকায়ন ও নতুন প্রকল্প সম্পর্কে শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলেছেন কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাহবুব-উর-রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পলাশ শরিফ

শেয়ার বিজ: দেশে হোটেল ব্যবসার বর্তমান অবস্থা কেমন?

মাহবুব-উর-রহমান: এ ব্যবসা অনেক সম্ভাবনাময়। যত দিন যাচ্ছে, দেশে বিদেশি নাগরিকের আনাগোনা বাড়ছে। সে তুলনায় দেশে ভালো মানের ও অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হোটেলের সংখ্যা কম। তাই এখন এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলাসহ বেশকিছু কারণে ব্যবসায় মন্দাবস্থা দেখা দিয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠলে ভবিষ্যতে ব্যবসা ভালো হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

শেয়ার বিজ: পুঁজিবাজারে আসার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিও অর্থ ব্যয় করতে পারেননি। এর কারণ কী?

মাহবুব-উর-রহমান: আমরা ব্যবসা সম্প্রসারণ তথা বিশ্বমানের হোটেল নির্মাণের জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিয়েছি। কিন্তু নতুন প্রকল্পের জন্য সুবিধাজনক স্থানে জমি পাওয়া কঠিন। তাই জমি পেতে সময় লেগেছে। অনেক চেষ্টার পর আমরা সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ পেয়েছি। এজন্য অর্থ ব্যয়ে সময় নিতে হয়েছে। এটা একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। কারণ আমরা কেনার চিন্তা করেছিলাম, এখন সরকারি জমি লিজ পেয়েছি। এখানে ব্যয়ও তুলনামূলক কম হয়েছে। তাই সময় লাগলেও কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো হচ্ছে।

শেয়ার বিজ: আপনাদের নতুন প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা কী?

মাহবুব-উর-রহমান: চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে ‘পেনিনসুলা এয়ারপোর্ট গার্ডেন’ নামে নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০৮ কোটি টাকা। নতুন এই পাঁচতারকা হোটেলটি পুরোপুরি বিশ্বমানের হবে। এ হোটেলে ২০০টির বেশি অতিথি কক্ষ থাকবে। তিনটি মাল্টি কুজিন রেস্টুরেন্ট, চারটি ফুড আউটলেট, তিনটি বলরুম, একটি বড় আকারের ইনফিনিটি পুল, ফিটনেস সেন্টার-স্পা ও জিমন্যাশিয়ামসহ অন্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এখানে নতুনত্বও থাকবে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। সে সঙ্গে আমরা ফ্লাইট ক্যাটারিংয়ের কাজও করব। আশা করছি, ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

শেয়ার বিজ: দেশজুড়ে পাঁচতারকা-তিনতারকা হোটেল ব্যবসায় মন্দাবস্থা দৃশ্যমান। এ অবস্থায় আপনাদের নতুন প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে?

মাহবুব-উর-রহমান: দেখুন, ব্যবসায় প্রতিযোগিতা আর ভালো-মন্দ সময় থাকবেই। সেদিকগুলো মাথায় রেখেই নতুন প্রকল্প করা হচ্ছে। তারপরও কয়েক বছরের তুলনায় সামনের দিনগুলোয় চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নতি হবে। কারণ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি বেশকিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হচ্ছে। পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত কয়েক বছর খারাপ কাটলেও এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাহিদামাফিক প্রকল্প হলে সেটাকে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক করা যাবে।
আমরা আমাদের রুমসংখ্যা বাড়িয়ে ১৪৪-এ এনেছি। আমাদের রেস্টুরেন্ট সংখ্যা তিনটি, দুটি বড় হলরুমসহ একটি কনফারেন্স রুম রয়েছে। ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা চিন্তা করে হোটেল রেনুভেশনে কাজ এগিয়ে চলছে। এতে নতুন নতুন আউটলেট যুক্ত হয়ে উল্লেখযোগ্য হারে রেভিনিউ বৃদ্ধি পাবে এ আশা রাখি এবং খুলনা, মিরসরাই ও ঢাকায় হোটেল করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। আমরা বিভিন্ন রেডি হোটেল পরিচালনার জন্য অপারেটিং লিজ বা পরিচালনার জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে তৈরি আছি। এছাড়াও কয়েকটি রেডি হোটেলকে আমাদের সঙ্গে একত্রীকরণ বা অধিগ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছি।

শেয়ার বিজ: আপনি বর্তমান হোটেলটির আধুনিকায়নের কথা বলছিলেন। সে প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে আছে?

মাহবুব-উর-রহমান: অভ্যন্তরীণ উৎস হতে বিদ্যমান হোটেলটির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কাজ করছি। দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের চাহিদা বিবেচনায় সেখানে ফিটনেস-স্পা সেন্টার, কফি শপ, ফাইন ডায়নিং রেস্টুরেন্ট, ইন্ডিয়ান বারবিকিউ রেস্টুরেন্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষ হলে আগামীতে আমাদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যার সুফল কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও পাবেন। এটি এখন আর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, জনগণের এখানে অংশগ্রহণ রয়েছে। তাই ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে খুলনায় নতুন পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়েছি। সেখানেও অদূর ভবিষ্যতে নতুন হোটেল নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার বিজ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর কী ধরনের সুফল পাচ্ছেন?

মাহবুব-উর-রহমান: পুঁজিবাজারে আসার অনেকগুলো ভালো দিক আছে। যেমন এখন পুঁজি সংকট নেই। ব্যাংকঋণ নির্ভরতাও কমেছে। এখন বড় কোনো পরিকল্পনা করা কঠিন কিছু নয়। সে সঙ্গে কাজকর্মে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। আমরা স্বচ্ছ কোম্পানি হিসেবে টিকে থাকতে চাই বলেই পুঁজিবাজারে এসেছি। আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে, এটি এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সম্পদ। এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও অংশ রয়েছে। তাই আমরা না থাকলেও স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি হিসেবে।

শেয়ার বিজ: ব্যবসায়িকভাবে সফল অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে। এ প্রবণতা কেন?

মাহবুব-উর-রহমান: পুঁজিবাজারে এলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কোম্পানির ভিত শক্তিশালী হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে এলে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার বিষয়গুলো সামনে আসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বাজার কর্তৃপক্ষ ও বিনিয়োগকারীদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই অনেকেই ঝামেলায় যেতে চান না। আমি মনে করি, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা এড়ানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে বড় কোম্পানিগুলোরও পুঁজিবাজারে আসা উচিত। তাহলে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। এতে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারী উভয়েই উপকৃত হবে।

শেয়ার বিজ: মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

মাহবুব-উর-রহমান: ধন্যবাদ শেয়ার বিজ পরিবারকে।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..