সুশিক্ষা

নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

দেখতে দেখতে আরও একটি বছর বিদায় নিয়েছে। এভাবেই চলতে থাকে জীবন। বছর যাবে, বছর আসবে এটাই নিয়ম। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষ নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পথচলায় অগ্রসর হয়। নতুন বছরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছেন। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেছেন অনিক আহমেদ

সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে

নতুন বছর মানে নতুন ভাবনা নিয়ে নব উদ্যমে পথচলা। ভালো-মন্দের মিশ্রণে বিগত বছরে যার যেমনই কাটুক না কেন নতুন বছরের লক্ষ্য নির্ধারণে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, সেই আশা করি। পুরোনো দিনের হতাশা-গ্লানি কাটিয়ে জঞ্জাল ভেঙে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন বছরে নতুন কিছু নিয়ে কাজ করা উচিত। কিছু প্ল্যান বা ডেডলাইন আগে থেকেই ফিক্সড করলে দ্রুত এগোনো যায়। নতুন বছর উপলক্ষে আমাদের লক্ষ্য হোক যেটা শিখতে হবে তা পুরোপুরি আয়ত্তে না আসা পর্যন্ত কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।

তাই সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বপ্ন কেউ ছোট করে দেখে না। স্বপ্ন অনেক বড়, তা পূরণের ইচ্ছা যেন বড় হয়। সময় ভীষণ মূল্যবান। একে কাজে লাগাতে হবে।

শামীম জয়

মার্কেটিং বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

পরিকল্পনামাফিক এগোতে হবে

নতুন বছরে আমাদের নতুনত্ব ও সৃজনশীলতার ওপর ভর করে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যেতে হবে। কিছু পরিকল্পনা নিয়ে যদি আমরা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নতুন বছরটা আমাদের সাফল্যময় হতে পারে। অন্যের কাছে নিজের মতো করে ভাবার আশা না করাটাই ভালো, কারণ সব মানুষের চিন্তাধারা ভিন্ন। মানুষের বহুমুখী চাহিদা থাকে আর সময়ের সঙ্গে তা বাড়তেও থাকে।

নিজেকে ভালোবাসতে হবে। কারণ যে নিজেকে ভালোবাসতে পারে না, সে অন্যের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। নিজেকে ভালোবাসার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো কাজে হাল ছেড়ে দেওয়া বা আশাহত হওয়া যাবে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে লেগে থাকতে হবে। নেতিবাচক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

মো. রুহুল আমিন

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)

দেশকে ভালোবাসতে হবে

নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন। সবার মনে একটা নতুনত্বের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। সময় যেন দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে। কেন যেন মনে হচ্ছেÑএই কয়েক দিন আগেই তো একটা বছর শুরু হয়েছিল! এত দ্রুত কীভাবে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, তা যেন ঠিক বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমরা অনেকেই হাঁপিয়ে উঠছি।

বিগত বছরগুলোয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অনেক উন্নতি হয়েছে; উন্নয়নের পথে বেশ এগিয়েছে। এখন আর আমাদের কেউ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করার সাহস দেখায় না। নতুন বছরে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নই আমার মূল চাওয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে চাই। নতুন বছরে নতুন উদ্যমে মেধার প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে চাই।

শাবনাজ শিকদার

ফার্মেসি বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

তরুণদের সর্বতোভাবে

ত্যাগী হতে হবে

পড়াশোনার পাশাপাশি রেডিওতে কাজ করার সুবাদে প্রতিটা ঘণ্টা, দিন, মাস ও নতুন বছর আমার কাছে ভিন্ন মাত্রার তাৎপর্য বহন করছে। নতুন বছরের শুরুতে ছোট ছোট ডেডলাইন দিয়ে অসংখ্য পরিকল্পনা করি। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ করি। বিগত বছরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করি।

নতুন বছরে তরুণদের কাছ থেকে তাদের সেরাটা বের করে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে রাষ্ট্রকে। তরুণদের কাছে সমাজ ও মানুষের কী চাওয়া-পাওয়া, তা বুঝতে হবে। তরুণদের পেশাগত দক্ষতা যাতে শিক্ষাজীবনে বৃদ্ধি পায় সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। দেশের জন্য তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

রিয়াজ হোসাইন

ব্যবসায় প্রশাসন (প্রফেশনাল) বিভাগ

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, ঢাকা

অতীতের ভুলত্রুটি কাটিয়ে উঠতে হবে

নতুন বছর যেন প্রত্যাশার এক নতুন কিরণ। বিগত দিনের অপূর্ণতা, কষ্ট ও গ্লানি যেন এ নতুন সময়কে স্পর্শ না করে। নতুন বছরটা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্ণিল সময় হিসেবে যুক্ত হোক, সে কামনা করি। আমাদের তরুণ প্রজš§ স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে দেশের কল্যাণে অবদান রাখবে। ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মাথা আরও উঁচু করতে পারবে। পরিশেষে কামনা করি, সব ধরনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন বছর বাঙালির জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি। সুন্দর হোক সবার আগামী সময়। বিদায়ী বছরের হতাশা ও বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে ভালো কিছু

প্রাপ্তির স্বপ্ন নিয়ে মানুষ বরণ করে নিক নতুন বছরকে।

মো. সামিউল বাশার

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও

প্রকৌশল বিভাগ

যশোর বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন চাই

পুরোনো দিনের ব্যর্থতা, গ্লানি ও হতাশা মুছে নতুন বছরের প্রতিটা ক্ষণ শুভ সংবাদ নিয়ে হাজির হবে, এ প্রত্যাশা করি। সারা বছর ধরে চলা দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, খুন, ধর্ষণ প্রভৃতির অবসান চাই।

এর পরিবর্তে আমাদের দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকÑসব ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে, এ আশা করি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকুক। পোশাক খাতের শ্রমিকদের সব ধরনের চাহিদা পূরণ হোক। দেশের বাইরে ও অভ্যন্তরের সব খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে আর্থসামাজিক পরিস্থিতির প্রভূত উন্নতি ঘটুক। রাজনৈতিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসুক। ২০২০ সালে কৃষি, প্রকৌশল, প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রের উত্তরোত্তর উন্নয়ন হবে, শিক্ষার্থী হিসেবে এমন আশা তো করতেই পারি।

মুস্তাফিজ পিন্টু

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..