প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নতুন বছর নিয়ে আসুক নতুন সম্ভাবনা

মহামারি কভিডকালে আমরা আরেকটি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছি। গত রাতে নানা আয়োজনে খ্রিষ্টীয় বছরের শেষ দিনটিকে বিদায় জানিয়েছে মানুষ। একই সঙ্গে তারা নতুন বছরকে বরণ করেছে। স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন ও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় উদ্যাপন থেমে ছিল না। বিপুল প্রত্যাশা আর সম্ভাবনায় নতুন বছর স্বস্তি ও উন্নতির বার্তা নিয়ে আসুক।

বিদায়ী বছরের ক্ষত ও ব্যর্থতা ভুলে সম্মিলিত প্রয়াসে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশবাসী নতুন বছরকে সফল করে তুলবে, এ আশায় বুক বাঁধছি। নতুন বছর ভালো কাটবে, সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে এবং পৃথিবী শান্তিময় হবে। 

হীনম্মন্যতা ঝেড়ে ফেলে নির্ভরশীলতাকে জয় করতে হবে। ঐক্যবোধের মহান চেতনা ও যুক্তিবাদের সৌকর্য ধারণ করতে হবে। প্রাচীন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তিত রূপই হচ্ছে খ্রিষ্টীয় বষপঞ্জি। যিশুখ্রিষ্ট অর্থাৎ খ্রিষ্টান সম্প্রদায় যাকে তাদের ধমের প্রবর্তক বলে মনে করেন, মুসলমানদের কাছে তিনি একজন রাসুল হজরত ঈসা (আ.)। তাঁর জন্মের বছরকে ধরেই সৌরবর্ষ  প্রবর্তন এবং এটিকে ভিত্তি বর্ষ ধরে পূর্ব ও পরবর্তী সাল গণনা করা হয। বর্তমান বিশ্বে ব্রিটিশ উপনিবেশ-উত্তর যুগেও খ্রিষ্টীয় সাল বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত। আন্তর্জাতিকতার কারণে খ্রিষ্টীয় বর্ষ বিশ্বব্যাপী নতুন মাত্রা পেয়েছে।  প্রতিটি নববর্ষই সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং ব্যাপক প্রচলন না থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বহু আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব দিনপঞ্জির প্রথম দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করে। নববর্ষ উদ্যাপনে নিয়ন্ত্রণহীনতা ক্যাম্য নয়। বছর কয়েক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠান দেখতে এসে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এক তরুণী। সব বিবেচনায় পরিমিতিবোধ থাকা প্রয়োজন। আনন্দ তো সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ। এটিকে উপভোগ করতে হলে সুস্থ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা চাই। বছরটি দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উপভোগ্য হোক।

নতুন কর্মসৃজনে বিশেষত তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সময়মতো কাজ না পেলে তরুণদের মধ্যে যে হতাশা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তার প্রভাব পড়ে সমাজজীবনে। এসব মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। 

বর্তমানে আমাদের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ বিশ্বে কমই রয়েছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি যত বাড়বে এবং বিশ্বায়ন যত হবেÑততই তীব্রভাবে দেখা দেবে বৈষম্যের ঝুঁকি। এ অবস্থায় সম্পদ বণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় শ্রমবাজার বিপুলাংশে জনশক্তি রপ্তানি ও সরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্র্রতিক সময়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সুযোগটি যেন পুরোপরি কাজে লাগাতে পারি আমরা। খ্রিষ্টীয় বর্ষ ২০২২ শুরুর এ আনন্দঘন দিনে আমরা শেয়ার বিজের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা। নতুন বছর সবার জন্য বয়ে আনুক আনন্দবার্তা এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বছরের প্রতিটি দিন। দেশের কর্মক্ষম সব নাগরিকের কর্মমুখরতায় গতিশীল হয়ে উঠুক আমাদের অর্থনীতি। তার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা যুক্ত হয়ে জীবনযাত্রার মান হোক উন্নত।