প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে জমি খুঁজছে পিডিবি

 

 

ইসমাইল আলী: সারা দেশে বর্তমানে ১০০টির বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বেশকিছু কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুরোনো কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে আসায় নতুন আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে জমি খুঁজছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এজন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার খাসজমি চেয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে জরুরিভিত্তিতে আগামী বছর মার্চের মধ্যে অতিরিক্ত তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জন্য জরুরিভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্ধারণপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিডিবি তিনটি কমিটি গঠন করে। কমিটি তিনটি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে কমপক্ষে দুই হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কেন্দ্র নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ছাড়াও আরও কয়েকটি সংস্থার জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তেল পরিবহনের সুবিধার্থে নিকটবর্তী রেলপথ বা নৌপথকে বিবেচনা করা হয়েছে। পরে জমি চেয়ে সংস্থাগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, তেলভিত্তিক বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখা ও বৃদ্ধিতে কয়েকটি কেন্দ্র দ্রুত চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য জমি চেয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে রেলওয়ের ১৩টি জমি চিহ্নিত করেছে পিডিবি। এগুলোয় মোট এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ১০০ মেগাওয়াট, রাজশাহীর কাটাখালীতে ১০০, ঈশ্বরদীতে ১০০, জয়পুরহাটে ১০০, সান্তাহারে ২০০, যশোরে ২০০, কুষ্টিয়ায় ১০০, চুয়াডাঙ্গায় ১০০, ময়মনসিংহে ২০০ ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে লালমনিরহাটে, কাটাখালীতে ও ঈশ্বরদীতে রেলওয়ে ১০ একর করে মোট ৩০ একর জমি ইজারা নিতে চায় পিডিবি। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় তেল সরবরাহের জন্য কিছুটা রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে জমি দেওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। এজন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। এ কমিটি রেলওয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের ভিত্তিতে সুপারিশমালা প্রদান করবে। পাশাপাশি জমির প্রাপ্যতা ও তেল সরবরাহে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে কমিটি।

এদিকে কক্সবাজারের খুরশকুলে ২০০ ও যশোরের নোয়াপাড়ায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ব্যক্তি মালিকানাধীন অনাবাদি জমি চেয়েছে পিডিবি। এ ছাড়া খুলনার মোকামপুরে ১০০ ও ঢাকার হাসনাবাদে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পিজিসিবি ও বিআইডব্লিউটিএর জমি চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নৌপথে তেল পরিবহন করা হবে।

এর বাইরে বিএডিসির জমিতে চুয়াডাঙ্গায় ১০০ মেগাওয়াট, জয়পুরহাট ও কুষ্টিয়ায় চিনিকলের জমিতে ১০০ করে মোট ২০০ মেগাওয়াট, পিডিবি ও পিজিসিবির জমিতে সান্তাহারে ২০০, কুষ্টিয়ায় ১০০, ফরিদপুরে ৫০ ও দাউদকান্দিতে ১৫০ মেগাওয়াট এবং সরকারি খাসজমিতে যশোরে ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে ময়মনসিংহ, সাভার, গাজীপুরের কড্ডা ও মীরসরাইয়ে যথাক্রমে ২০০, ২০০, ১৫০ ও ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এসব কেন্দ্রে রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে তেল পরিবহন করতে হবে।