প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

নতুন বিনিয়োগে বাজার গতিশীল

 

রুবাইয়াত রিক্তা: গতকাল বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থানের রেকর্ড হয়েছে। ২০১৩ সালে সূচকটি চালু হওয়ার পর গতকালই ছিল সর্বোচ্চ অবস্থানে। ডিএসইতে বাজার মূলধনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজার এখন গতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে জানা গেছে, বাজার উন্নয়নে আইসিবি বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় রয়েছে। আর বাজারে তেজিভাব ফিরে আসায় বড়, ক্ষুদ্র সব ধরনের বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হয়েছেন।

গতকাল ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। সূচক ইতিবাচক করতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, কেয়া কসমেটিকস, এসআইবিএল এক পয়েন্ট করে ভূমিকা রেখেছে। তবে আইসিবির কারণে প্রায় চার পয়েন্ট সূচকের পতন হয়।

গতকাল ঢাকার বাজারে ১১শ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে বস্ত্র খাতের প্রাধান্য থাকলেও আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমে এসেছে। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ২০৭ কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ। এরপর ব্যাংক খাতে ১৬৬ কোটি টাকা বা ১৫ শতাংশ, আর্থিক ও জ্বালানি খাতে হয় ১৩৮ কোটি টাকা করে বা ১২ শতাংশ করে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ বা ১৩০ কোটি টাকা। তবে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে জ্বালানি খাত, ব্যাংক  এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ছিল। আর্থিক খাত ভালো হওয়ায় গতকাল এ খাতের ২৩টির মধ্যে ১৫টি কোম্পানির দর বেড়েছে। তিনটির কমেছে এবং পাঁচটির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ খাতের ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সের দর ৯.৮৪ শতাংশ বেড়ে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। গতকাল লেনদেনের নেতৃত্ব দিয়েছে বারাকা পাওয়ার, কেয়া কসমেটিকস, লংকাবাংলা, প্যারামাউন্ট টেক্স, রিজেন্ট টেক্স, ব্র্যাক ব্যাংক, ফু-ওয়াং ফুড, সাইফ পাওয়ার। অন্যদিকে দরবৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল ন্যাশনাল হাউজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, কেয়া কসমেটিকস, ইসলামিক ফিন্যান্স। জেড ক্যাটাগরির যেসব শেয়ার বেশ কিছুদিন ধরে  দরবৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল গতকাল সেগুলোর দর কমেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে দরবৃদ্ধির কারণ দর্শানোর নোটিসও পাঠিয়েছে ডিএসই।

পুঁজিবাজারে প্রচুর নতুন বিনিয়োগ আসছে। ফলে বাজার গতিশীল অবস্থানে রয়েছে। শেয়ারের দামও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী বিশেষ করে যারা নতুন, তারা বুঝে উঠতে পারেন না কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। যেসব শেয়ারের দর ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে সেগুলোয় বিনিয়োগ করে লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ৯। এ খাতে অনেকগুলোর শেয়ারের দর নি¤œ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বিমা খাতের পিই ১২.৯ এবং জ্বালানি খাতের পিই ১৩.৫। অর্থাৎ ১৫-এর নিচে থাকা এসব খাতের যেসব কোম্পানির দর অতি মূল্যায়িত হয়নি সেগুলো বিনিয়োগ উপযোগী।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..