Print Date & Time : 3 July 2022 Sunday 5:53 pm

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে খরচ হবে ২৫০০ কোটি টাকা

শেখ আবু তালেব: নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যাংকভেদে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়ে যাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে। এতে বেসরকারি পর্যায়ের ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা ইসলামী ব্যাংকের খরচ বাড়বে ২০০ কোটি টাকার মতো। অন্যদিকে একইসঙ্গে খরচ বাড়বে ব্র্যাক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। এভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার খরচ বাড়বে।

যদিও শুধু প্রবেশকালীন ব্যাংকারদের বেতন বৃদ্ধিতে এ পরিমাণ অর্থ খরচ হবে না। প্রবেশকালীন ও অফিস সহায়কদের বেতন বৃদ্ধিতে ব্যাংকের অফিসার ও জুনিয়র অফিসারদের পাশাপাশি সর্বস্তরের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। এতে কয়েক স্তরে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। ফলে সর্বশেষ গিয়ে ব্যাংকের খরচ বেড়ে যাবে ৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রতিবেদন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

অনুমোদন নিয়ে দেশে বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে স্থায়ী, অস্থায়ী এবং অফিস সহায়ক গত বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে এক লাখ ৮৬ হাজারের বেশি জনবল নিয়োজিত রয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে শাখা বিবেচনায় ৪৯০টি নিয়ে বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক। সর্বশেষ গত বছরে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৫৪৮ কোটি টাকা।

এদিকে শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংক মিলিয়ে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের। যদিও ব্যাংকটি ৩৮৪টি শাখা নিয়ে শাখাগত দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত বছরে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।

দেশে এসএমই ব্যাংকিংকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সারাদেশে ব্যাংকটির ১৮৭টি শাখা রয়েছে। এরসঙ্গে এসএমই ইউনিট রয়েছে ৪৬১টি। এসব মিলিয়ে ব্যাংকটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক জনবল রয়েছে। গত বছরে ব্যাংকটিতে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে মোট জনবল ছিল সাত হাজার ৭৪০ জন। ব্যাংকটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক জনবল রয়েছে। ফলে ব্যাংকটিকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ১৪০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা খরচ বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অনেক জনবলকেই বাতিল করতে হবে ব্যাংকটির।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কর্মচারীদের বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে ব্যাংকিং খাতে। ব্যাংকগুলো এখন পর্যালোচনা ও হিসাব-নিকাশ করছে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কত খরচ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে প্রবেশকালীন কর্মকর্তাদের ও অফিস সহায়কদের (পিয়ন, ক্লিনার, মেসেঞ্জার, গার্ড ও চুক্তিভিত্তিক) বেতন বৃদ্দিতে কত টাকা বাড়তি খরচ হবে। আর বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে খরচের পরিমাণ কত বাড়বে সে হিসাবটি কষছেন ব্যাংকাররা।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে শুধু প্রবেশকালীন ও অফিস সহায়কদের জন্য বার্ষিক ২০ কোটি টাকার মতো নতুন খরচ যোগ হবে। কিন্তু বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার ফলে মোট ৯০ কোটি টাকার মতো প্রতি বছরে বাড়তি যোগ হবে।

এদিকে একইভাবে বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১৫০ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বার্ষিক খরচ বাড়বে।

এদিকে দি সিটি ব্যাংকের খরচ বাড়বে ১৩০ কোটি টাকা। কারণ হিসেবে ব্যাংকটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকটিতে সাড়ে ৬০০ জনবল রয়েছে চুক্তিভিত্তিক। এ বিশাল জনবলকে স্থায়ী করতে গিয়ে ব্যাংকটির খরচ বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সব ব্যাংকের সক্ষমতা একরকম নয়। আবার পরিচালনা খরচও এক নয়। বিশেষ করে আমানত ও ঋণ বিতরণের দিক। তহবিল ব্যবস্থাপনা খরচও এক নয়। অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বেশিই দিচ্ছে। কিন্তু সব পর্যায়ে যে দিচ্ছে না, এটি ঠিক। আবার কয়েকটি ব্যাংক এখনও লোকসানে রয়েছে। তাদের লোকসান আরও বাড়বে। বিশেষ করে নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিমশিম খাবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করলে ভালো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি বেসরকারি ব্যাংকের প্রবেশকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বনিন্ম বেতন নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিন্ম বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা। আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের সর্বনিন্ম বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা; যা আগামী মার্চ থেকে কার্যকর করতে হবে। এরপরই ব্যাংকগুলো এ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু করেছে।