খবর দিনের খবর

নদীতীর থেকে ধর্মীয় স্থাপনা সরিয়ে পুনর্নির্মাণে প্রকল্প আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর চারপাশের নদী দখল করে গড়ে ওঠা মসজিদসহ ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে নদীর সীমানার বাইরে নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সচিবালয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের তীরভূমিতে বিদ্যমান মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে বাইরে নির্মাণ নিয়ে এক সভায় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকাকে বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। গত এক বছর ধরে যে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তা মোটামুটি বাধাহীনভাবেই এগিয়ে চলছে। সেখানে আমাদের কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো সরাসরি বিভিন্ন ধরনের অনুভূতির সঙ্গে জড়িত মসজিদ মাদরাসা, এতিমখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্মশানঘাটসহ অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। যেগুলো আমাদের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। সেগুলোতে আমরা কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি, আমরা আলোচনা করছি।’

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনায় আমরা বলেছি, আমরা এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্ছেদ করতে চাই না, আমরা এটাকে সমন্বয় সাধন করতে চাই। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এ জায়গায় পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে পারি কিনা। এগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে।’

দেশে সরকারি অর্থায়নে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে খালিদ মাহ্মুদ বলেন, ‘সে আলোকেই আমরা আলোচনা করেছি। ঢাকার আশেপাশে নদীতীরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে করতে পারি, এর সংখ্যা অনেক কম। এটা করলে যখন আমরা নদী দিয়ে চলাচল করব এ ধরনের সুদৃশ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দেখব সেটাও আমাদের ভালোলাগার একটা বিষয় হবে। বিদেশি মেহমানরাও যখন নদীতে ভ্রমণ করবেন, দেখবেন বাংলাদেশ সরকার একটি সুন্দর চিন্তা-ভাবনা নিয়ে একই ডিজাইনের এ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

খালিদ মাহ্মুদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে যখন সুন্দর সিদ্ধান্ত আসবে, তখনই আমরা বাস্তবায়নে যাব। এখানে স্থাপনা নির্মাণ, জায়গা নির্মাণের ব্যাপার আছে। (নদী দখল করে) এক জায়গায় তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে, সেগুলোতে এক জায়গায় সমন্বয় করা যায় কি না! এগুলো নিয়ে সার্ভে হচ্ছে। কোনো জায়গায় এগুলো করা যায়। এজন্য একটি প্রকল্প করতে হবে। প্রকল্প করে অনুমোদন নেওয়ার পর আমরা বাস্তবায়নে যাব। অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পগুলো আমরা বাস্তবায়নে আছি, অনেক ধরনের বাধা আসতেছে।’

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরে কতদিন সময় লাগতে পারেÑজানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্ভে করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে, এজন্য ডিপিপি প্রণয়ন করতে হবে। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।’

সভায় জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালি, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী দখল করে ১১৩টি ধর্মীয় স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মাজার রয়েছে ৭৭টি; কবরস্থান ও মৃত ব্যক্তির গোসলখানা পাঁচটি; ঈদগাহ একটি; স্কুল ও কলেজ ১৪টি; স্নানঘাট, মন্দির ও শ্মশানঘাট ১৩টি এবং অন্যান্য স্থাপনা তিনটি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..