প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে তদারকি বাড়ান

দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী থেকে অবাধে বালি উত্তোলনের খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বালিমহাল ঘোষণা করা হয়নি এমন এলাকা থেকে বালি তুলে চলছে কোটি কোটি টাকার বালির ব্যবসা। কথিত বালিমহালের ইজারাদাররা বলছেন, সরকারি আইনকানুন মেনে বৈধভাবে ব্যবসা করছেন তারা। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে দণ্ডিত হন তারা।

কয়লা বা সোনা উত্তোলনের চেয়ে বালি উত্তোলনের নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। উন্নত-উন্নয়নশীল সব দেশেই বালি উত্তোলন হয়। বালি উত্তোলনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর নতুন আবাস ও নতুন জলাধার সৃষ্টিতে এর অবদান রয়েছে। দুঃখজনক হলোÑবালি উত্তোলন আমাদের দেশে কখনোই ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, কেননা অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

বালি তোলার ফলে উত্তোলনের স্থান, আয়তন, সময়, অন্যান্য খনি, সংশ্লিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য ও উত্তোলনের প্রাযুক্তিক ব্যবস্থাসহ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। সামুদ্রিক বালি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণেও বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের আইন রয়েছে। আমাদের দেশে আছে ‘বালিমহাল আইন, ২০১০’। এ আইন অনুসারে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালি ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু আমরা লক্ষ করি, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ প্রভৃতির পাশেই বালি উত্তোলন চলছে। অনেকে বলেন, দেশে বাড়ি, রাস্তা, সেতুসহ যেকোনো কংক্রিট স্থাপনা-অবকাঠামো সম্পূর্ণ বৈধ বালি দিয়ে করা হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত নেই।

দেশে অবৈধ বালি উত্তোলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রশ্রয় রয়েছে বলে বহু অভিযোগ রয়েছে। নইলে আইন থাকার পরও নির্বিচারে বালি উত্তোলন চলে কীভাবে। সদ্য সমাপ্ত ডিসি সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশের কোথাও সন্ধ্যা ৬টার পর নদী থেকে বালি উত্তোলন করা যাবে না। বালি উত্তোলন বন্ধ, উঁচু স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ এবং নদীর তীরবর্তী বাঁধগুলোয় যাতে ঘরবাড়ি বা অবৈধ স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সেদিকে ডিসিদের নজর দিতে বলা হয়েছে।

স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে নদী নিজেই পথ খুঁজে নেয়। তখন তীরবর্তী এলাকার মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন; দেশ ও জাতিকে অনেক মাশুল দিতে হয়। নদীশাসনে আমাদের প্রতিবছর বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। মন্ত্রীর নির্দেশনা যথানিয়মে পরিপালিত হলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং জলাশয় অপদখল বন্ধ হবে। উত্তোলিত এসব বালি দিয়েই দখলের আগে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীতীরবর্তী জলাশয় কৌশলে ভরাট করে থাকেন। বালি উত্তোলন বন্ধ করা যাবে না। এটি নির্মাণশিল্পের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তাই বালি উত্তোলন করতে হবে এ শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে এবং আইন মেনে। স্থানীয় প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকিতে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ হবে বলেই প্রত্যাশা।