নদীতে বিলীন রাজবাড়ীর সেই চর সিলিমপুর স্কুল

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী: অবশেষে নদীতে বিলীন হয়েই গেল পদ্মা পাড়ে অবস্থিত রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সেই চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে চর সিলিমপুর ৭নং ওয়ার্ড স্কুলসংলগ্ন পদ্মা তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক ভেঙে বিদ্যালয়টি নদীতে ধসে পড়ে। এ সময় এলাকার শত মানুষ তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি নিজের চোখে নদীতে বিলীন হওয়া দেখে কাঁদতে থাকেন।

বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের মানুষের শতাধিক শিশুর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। অবশ্য প্রশাসন বলছে- এ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যাতে কোনো বিঘœ না ঘটে সে বিষয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিদ্যালয়-সংলগ্ন একাধিক বাসিন্দা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার নদী ভাঙনরোধে এত টাকা ব্যয় করছে অথচ ঠিকাদার কাজ করছে না। সঠিক কাজ করলে আজ এ বিদ্যালয়টি নদীতে হারিয়ে যেত না।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে হঠাৎ করে বিদ্যালয়-সংলগ্ন পদ্মার ডান তীররক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন শুরু হয়। এতে সিসি ব্লকের ৪০ থেকে ৫০ মিটার নদীতে বিলীন হয়।

হঠাৎ সিসি ব্লক ভেঙে নদীতে চলে যাওয়ায় চরম হুমকিতে পড়েছিল বিদ্যালয়টিসহ মসজিদ ও প্রায় অর্ধশত বসতভিটা। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের একটি টিনশিডে পাঠদান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সলিম শেখ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতির কারণে আজ আমাদের একমাত্র স্কুলটি রক্ষা হলো না। সেই নদীর পেটেই চলে গেল স্কুলটি। স্কুল ছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এখন হুমকিতে।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সুমন বলে, আমাদের পড়ালেখার একমাত্র স্কুলটি আজ নদীতে চলে গেল। আমরা এখন কোথায় পড়ব?

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার পর বিদ্যালয়ের মূল ভবনেই পাঠদান করাচ্ছিলাম। হঠাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে স্কুলের পাশে সিসি ব্লক ভেঙে নদীতে চলে যাওয়ার পর থেকে আর ওখানে পাঠদান করাচ্ছিলাম না। কারণ তখন মূল ভবনটি  চরম ঝুঁকিতে ছিল। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পাশের টিনশেডে ক্লাস নিচ্ছিলাম। কিন্তু আজ (শুক্রবার) স্কুলের ভবনটি নদীতে চলে গেল।

রাজবাড়ী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, পদ্মার পানি কমার কারণে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

সর্বশেষ..