খবর দিনের খবর

নদী থেকে না সরলে পরিস্থিতি কঠিন হবে: শিল্পমালিকদের প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নদীর সীমানায় গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিতে সরকারের দেয়া সুযোগ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নদীর সীমানায় গড়ে তোলা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের প্রতি এ ইঙ্গিত করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে।

নদী দখলকারীরা অনেক ক্ষমতাশালী। এসব দখলদার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা নদী দখল করেন তারা সবাই রাঘববোয়াল নন, সাধারণ মানুষও আছেন। সাধারণ মানুষ জায়গা না থাকায় একটা ঘর বেঁধে ফেলে, সে তো জানে না যে এতে নদী দখল হয়ে গেল। এক্ষেত্রে অসাবধানতাও কাজ করে।

তিনি বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ নেই। শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানা দরকার, সেগুলো তারা মানেনি। বরং জরিমানার আওতায় তাদের আসার কথা। আমরা তাদের সুযোগ (নদীর সীমানা থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান অপসারণের) দিয়েছি। এ সুযোগের যদি সঠিক মূল্যায়ন না করা হয়, তবে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীতীরে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আমরা কিছুটা সময় দিতে চাই। কারণ এতে শিল্পমালিকদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশে কেউ কখনও ভাবেইনিÑনদীরও নিজস্ব জায়গা আছে। এ ভবনাটা তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, দীর্ঘদিন রাষ্ট্র সেটা করেনি।

তিনি বলেন, আমরা সীমানা পিলার দিয়েছি। দখলকারী জেনে গেছে, তার স্থাপনা নদীর সীমানায় পড়েছে। তাকে এ নিয়ে বার্তাও দেয়া হয়েছে।

নদীর সীমানায় পিলার স্থাপন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে বলে জানিয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে বিষয়ে আমরা হেয়ারিং নিচ্ছি। অনেক বিষয় আমরা সমাধান করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করতে চাই। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ ছিল। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের মতো নতুন ও পুরোনো নৌপথ তৈরি করতে পেরেছি। আমরা এর সুফল পেতে শুরু করেছি। এবার অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে পানি এলেও তা বন্যায় রূপ নেয়নি। এর অন্যতম কারণ নদীগুলোয় ধারাবাহিক ড্রেজিং করা।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তিনটি ক্রুজ ভ্যাসেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে হ্যালিপ্যাডসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এ ক্রুজ ভ্যাসেল সংগ্রহ করবে।

উত্তরাঞ্চলের বালাসীঘাট ফের চালু করা, কিংবা সেখানে সেতু করার কোনো চিন্তা সরকারের আছে কি না, জানতে চাইলে নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর বিকল্প একটি সেতুর প্রয়োজন আছে। দ্বিতীয় একটি টানেলের সমীক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেটার যদি সঠিক ফল আসে, তাহলে ভবিষ্যতে সেখানে একটি টানেল নির্মাণ করা হবে। এ ধরনের একটি চিন্তা-ভাবনার কথা আমরা জেনেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলীর পর দেশে দ্বিতীয় টানেল হবে যমুনায়।

মাওয়া ঘাটে কবে থেকে ফেরি চালু হবে এবং পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কার বিষয়ে তদন্ত কমিটি কী তথ্য পেলÑএ বিষয়ে পৃথক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ চার নটিক্যাল মাইলের নিচে পানির স্রোত আসছে কি না, সেটা আমি জানি না। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে সর্বশেষ (ধাক্কা দেয়ার) যে ঘটনাটা ঘটে গেল, সেখানে সেতু কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘ধাক্কা লাগেনি।’ সিগন্যাল লাইট যখন নামিয়ে দেয়া হয়, তখন ভিডিওটা ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। এ সময় বিএসআরএফ-সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..