প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

নদী রক্ষায় সুফল নেই: বাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে সরকারের নদী রক্ষার উদ্যোগে সুফল মিলছে না অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। কারণ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, নদী উচ্ছেদ ও দখল সমান্তরালে চলছে। বিশ্ব নদী দিবস সামনে রেখে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দেশের নদীগুলো শিল্পপতি ও ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের কবলে। সরকারের ওপর মহল থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তা নিচের স্তরে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুধু প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একদিকে নদী থেকে দখল-উচ্ছেদ হচ্ছে, অন্যদিকে আবার দখল হচ্ছে। নদী রক্ষায় কোনো সুফল মিলছে না।
মতিন বলেন, নদী রক্ষায় বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিতে সরকার গুরুত্ব দেয়নি। দুর্নীতিবাজ আমলা ও প্রভাবশালীদের কারণে নদী দখল রোধ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নদী দখলকালীদের চিহ্নিত করে, তাদের তালিকা দেশের সব জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে সারা দেশে চার হাজার ৪৪৩ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বাপার সাধারণ সম্পাদক।
‘বিশ্ব নদী দিবস ২০১৯’-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা, এর আইনি অধিকার নিশ্চিত করুন।’
বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ‘এই ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় বড় নদী দখলদার চির স্থায়ী বৈধতা পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই দখল-দূষণের সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তির দাবি জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণত জনগণকে অনেক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও নদীরক্ষায় কাজ করতে হবে। ফৌজদারি আইন ও সংশোধন করতে হবে। যেন দখলদাররা নদীকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও ভয়ভীতি দেখানোর মতো দুঃসাহস না পায়। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রতি বছর গড়ে ১ টি নদী ও ১৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ বলেও জানানো হয়।
২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস সামনে রেখে আগের দিন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওইদিন সকালে ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে ঢাকায় ৭০টি সংগঠনের নেতকর্মীরা জমায়েত হয়ে পদযাত্রা শুরু করবে। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে শেষ হবে। এরপর নদী রক্ষায় বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হবে।
সভায় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার করা রয়েছে বলে জানানো হয়। আর পদযাত্রায় সব শ্রেণির মানুষকে অংশ নিয়ে নদীর সামনে দাঁড়িয়ে দখলের প্রতিবাদ জানানো আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, রিভারাইন পিপলের প্রধান নির্বাহী শেখ রোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..