দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

নদ-নদী দখলমুক্ত ও নাব্য রক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক

মো. জাহাঙ্গীর আলম খান: নদী বিধৌত বাংলাদেশে সব শ্রেণির মানুষের পছন্দের বাহন নৌযান। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথে অসংখ্য ছোট-বড় যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী, তেলবাহী, বালিবাহী নৌযান চলাচল করে। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নৌযান ও নৌপথের অবদান অনস্বীকার্য। কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও নৌপথ অন্যান্য মাধ্যম অপেক্ষা সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও অধিকতর নিরাপদ হওয়ায় যাত্রীসাধারণ নৌযানে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নৌচলাচল তথা নদীর নাব্য রক্ষায় ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদ-নদী রক্ষা, দখল ও দূষণ রোধকল্পে এবং পানির প্রবাহ সচল ও স্বাভাবিক রাখতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

নদী বাংলার জনগণের প্রেরণা শক্তি ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং বাংলাদেশের কৃষক, জেলে, নৌজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। এ দেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রজন্মান্তরে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম বিবেচনায় নিয়ে আমাদের নদী রক্ষায় সার্বিক ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার ফলে ২০১৩ সালের ২৯ নং আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। বর্তমানে এ কমিশন সমগ্র বাংলাদেশের নদ-নদীর সমস্যা চিহ্নিত করে নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ ও আইনানুগ ব্যবস্থা করেছে। নদী রক্ষার্থে নদীর দখল ও দূষণ প্রতিরোধসহ নাব্য বজায় রাখতে ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার আরও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে নদী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি এবং বাংলাদেশের সব স্তরের জনগণের মধ্যে মাতৃদুগ্ধসম নদীজল ও নদী রক্ষার্থে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। নদী বিপন্ন হলে, নদী মারা গেলে আমাদের হাজার হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস বিলুপ্ত হবে; আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি বিপন্ন হবে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। এজন্য নদীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। এ চেতনা থেকেই বলা হয়ে থাকে, ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’।

নৌ-সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌ-পরিবহনের বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। নদী খননের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারের বর্তমান মেয়াদে ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। দেশের সব নদী দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নদীতীর দখলমুক্ত করাকে বিআইডব্লিউটিএ ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬ কার্যদিবসে ঢাকার চারপাশে নদীর তীরে ৩,৫৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ৯১ একর জায়গা উদ্ধার করেছে।

নিরাপদ পরিবেশ ও স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনে নৌযানের গুরুত্ব অপরিসীম। নৌপরিবহন সেক্টরের গুণগতমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং নদীর প্রবাহ কমায় সংশ্লিষ্টদের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যর্থতাসহ নানা কারণে বাংলাদেশের নৌপথ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে সরকার নৌপথের নাব্য রক্ষাসহ এর উন্নয়নে যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। নৌপথের উন্নয়নের অগ্রগতির চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের নৌপথের অগ্রগতির মাইলফলক স্থাপিত হবে। একসময় দেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল; অযত্ন-অবহেলায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকে, যা বর্ষাকালে এসে দাঁড়ায় ৬ হাজার কিলোমিটারের ওপরে।

গত ১০ বছরে বিআইডব্লিউটিএ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ খননের আওতায় ১,৭৪০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করেছে এবং আরও ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ১,৭৪০ কিলোমিটার নৌপথ খননের বিবরণ। ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথ চালুকরণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় বালু ও তুরাগ নদীর ৩৭ কিলোমিটার; মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌপথ খনন প্রকল্পের আওতায় কুমার নদীর ৩২ কিলোমিটার, লোয়ার কুমারের ১৮ কিলোমিটার, আপার কুমারের ২৭ কিলোমিটার, বিলরুটের (মধুমতি নদী) ৩৩ কিলোমিটার, আড়িয়াল খাঁর ২০ কিলোমিটার; দাউদকান্দি ও হরিদাসপুর পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের আওতায় গোমতী নদীর ৮ কিলোমিটার, মধুমতি ও শৈলদাহ নদীর ৬৬ কিলোমিটার; ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথের খনন প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ-দাউদকান্দির ২০ কিলোমিটার, ডেমরা-ঘোড়াশাল-পলাশ-টোক-কোটিয়াদীর ১০০ কিলোমিটার, লাহারহাট-ভেদুরিয়ার ২৫ কিলোমিটার, সাহেবেরহাট-টুংগীবাড়ীর ১০ কিলোমিটার, রামচর-মাদারীপুরের ৩৫ কিলোমিটার, চাঁদপুর-হুলারহাটের ৬৫ কিলোমিটার, সদরঘাট-বিরুলিয়া-আশুলিয়ার ৩৫ কিলোমিটার, ঢাকা-তালতলা-ডহুরী-জাজিরা-মাদারীপুর-পেয়াজখালীর ১৬০ কিলোমিটার; অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (১ম পর্যায়: ২৪টি নৌপথ) প্রকল্পের আওতায় বরিশাল-ঝালকাঠি-বরগুনা-পাথরঘাটার ৬০ কিলোমিটার, মোংলা-ঘাষিয়াখালীর ২৬ কিলোমিটার, ভৈরব-ছাতকের ১৮০ কিলোমিটার, সৈয়দপুর-বান্দুরার ৪০ কিলোমিটার, খুলনা-বরদিয়া-মানিকদার ১২০ কিলোমিটার, দিলালপুর-নিকলী-নেত্রকোনার ৫৬ কিলোমিটার, গাগলাজোর-মোহনগঞ্জের ২৭ কিলোমিটার, হাজরাপুর-জাবরার ৫০ কিলোমিটার, চাঁদপুর-ইচুলী-হাজীগঞ্জের ৩০ কিলোমিটার, মিরপুর-সাভারের ৯ কিলোমিটার, ভৈরব-কটিয়াদীর ২৮ কিলোমিটার, সলিমগঞ্জ-বাঞ্ছারামপুরের ৩০ কিলোমিটার, দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুরের ২০ কিলোমিটার, বরিশাল-পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার, ছাতক-ভোলাগঞ্জের ৮ কিলোমিটার, শ্রীপুর-ভোলা-গঙ্গাপুরের ১০ কিলোমিটার, খুলনা-নোয়াপাড়ার ১৫ কিলোমিটার, চিটাগাং-কক্সবাজারের ২৫ কিলোমিটার, সিনদিয়াঘাট-ভাঙ্গা-বাকুন্দার ১২ কিলোমিটার, পঞ্চগড়-দিনাজপুর-নওগাঁ-নাটোর-পাবনার ৫০ কিলোমিটার, মাদারীপুর-টরকী-হোসেনাবাদ-ফাসিয়াতলার ১৫ কিলোমিটার, দুর্লভপুর-লাওয়ারঘরের ২৫ কিলোমিটার, নবিনগর-কুটির ৩ কিলোমিটার এবং খুলনা-বরিশাল-চাঁদপুর-দৌলতদিয়া-রূপপুর নৌপথ ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ৯০ কিলোমিটার সর্বমোট ১ হাজার ৭৪০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হয়েছে।

১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (প্রথম পর্যায়: ২৪টি নৌপথ খনন) প্রকল্পের আওতায় ১,১৫০ কিলোমিটার; ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের খনন প্রকল্পের আওতায় ৬৩৫ কিলোমিটার এবং মোংলা থেকে চাঁদপুর ভায়া গোয়ালন্দ হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার নৌপথ খননকাজ চলমান রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জ-বরিশালের ৯০০ কিলোমিটার নৌপথ খননকাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হবে; পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ৪৯৩ কিলোমিটার নৌপথ খননকাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হবে। গোমতী নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ৯৫ কিলোমিটার; মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউতরা, বোলাই-শ্রীগাং নদীর অংশবিশেষ ও ইটনা উপজেলার ধনু নদী, নামাকুড়া নদী এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর অংশবিশেষের নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ৬৭ কিলোমিটার নৌপথ খনন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। জিনাই, ঘাঘট, বংশী এবং নাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌপথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ৬১৬ কিলোমিটার; সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদী ও রাঙ্গামাটি-থেগামুখ নৌপথ খননের মাধ্যমে নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ২৫২ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সে অনুযায়ী ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের লক্ষ্মীপুর প্রান্তে মেঘনা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৮ কিলোমিটার; বুরিশ্বর-পায়রা, সোয়া, সুতিয়া ও কাঁচামাটিয়া নদীর নাব্য উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ২৬০ কিলোমিটার এবং হাওরাঞ্চলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং দ্বারা নাব্য বৃদ্ধি, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি, পর্যটন, জলাভূমি ইকোসিস্টেম, সেচ এবং ল্যান্ডিং সুবিধাদি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় (১৮টি নদী) ৬৯০ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সে অনুযায়ী ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১২টি নদীর ৭০০ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষা কাজ শেষে প্রকল্প প্রস্তুত করা হবে। মোংলা ঘাষিয়াখালী ক্যানেলসহ খুলনা বিভাগের ১৯টি নদীর ৭০০ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষা কাজ শেষে প্রকল্প প্রস্তুত করা হবে। বরিশাল বিভাগের ৩১টি নদীর ৮০০ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা কাজ চলমান রয়েছে। সমীক্ষা কাজ শেষে প্রকল্প প্রস্তুত করা হবে। আরও ৪৭টি নদীর ২,৭৫৪ কিলোমিটার নৌপথ খননের সমীক্ষা আগামী অর্থবছরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ মোট ১৭৮টি নদীর সর্বমোট ১০,৫০০ কিলোমিটার নৌপথ খননের কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এগিয়ে চলছে।

হারিয়ে যাওয়া নৌপথ ফিরে পেতে সরকার কাজ করছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় নদীমাতৃক বাংলাদেশ তার হƒত গৌরব ফিরে পাবে। নৌপথ হয়ে উঠবে আরও অধিক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। নৌপথে সারা বছর যাত্রী ও মালামাল নির্বিঘেœ পরিবাহিত হবে। কৃষি সেচের সমস্যা থাকবে না। ভাতে মাছে বাঙালিÑমাছ চাষে পর্যাপ্ত জলাশয় ফিরে পাবে। সারা দেশে নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমরা তখন বলব তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।

পিআইডি নিবন্ধ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..