প্রচ্ছদ শেষ পাতা

নন-লাইফের রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে এনবিআরকে আইডিআরএ’র চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ বিষয়ে সংস্থাটির নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে এ খাতে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে এনবিআরে সহযোগিতা চেয়েছে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তথ্যমতে, বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বিমা পলিসি ইস্যুর আগেই কভার নোট দিয়ে আমদানি করা পণ্য বন্দর থেকে খালাস করছে। এতে সরকার ফি বছর বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এভাবে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ‘কভার নোটের পরিবর্তে বিমা পলিসি ইস্যুর পর পণ্য খালাসের নির্দেশ’ দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে চলতি মাসে লেখা ওই চিঠিতে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম আয় কম প্রদর্শন করে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ‘সাধারণ বিমার পলিসিতে স্ট্যাম্প শুল্ক প্রদানের আইন থাকলেও তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’ জানিয়ে সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এনবিআর ও আইডিআরএ যৌথভাবে কাজ করলে বিমা খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করছেন বিমা খাতের দায়িত্বশীলরা। এতে বিমা খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেও মনে করছেন তারা।
আইডিআরএ’র দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, সাধারণ বিমা খাতে স্বচ্ছতা আনতে কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করাসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধের জন্য কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এনবিআর ও আইডিআরএ সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানো সম্ভব হবে। এতে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
এদিকে নন-লাইফ কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য গত ৪ জুলাই নির্দেশনা দিয়েছে আইডিআরএ। ওই নির্দেশনায় বিমা পলিসির ওপর প্রদেয় স্ট্যাম্প শুল্ক বিধিমালা ও এ-সংক্রান্ত আইনি নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কোম্পানিগুলোকে বিদ্যমান বিধিমালা মেনে বিমা গ্রাহকের নাম-ঠিকানা ও পলিসি নম্বর স্পষ্টভাবে লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ২০ হাজার টাকার বেশি বিমা স্ট্যাম্প প্রযোজ্য হলে সে ক্ষেত্রে অন্য পলিসির সঙ্গে না মিলিয়ে পৃথক চালানে শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লেখা চিঠিতে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নের এনবিআরের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ..