সম্পাদকীয়

নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ উৎপাদনে ব্যবস্থা নিন

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সভ্য জগতের অপরিহার্য অনুষঙ্গ বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছাড়া একটি মুহূর্ত কল্পনা করা যায় না। বিশ্বের সব দেশই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। বলা যায়, বিদ্যুৎ ও উন্নয়ন প্রায় সমার্থক। অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রাপ্তির বিকল্প নেই। তাই আধুনিক রাষ্ট্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অপব্যবহার, অপচয়ে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হচ্ছে। ডিজেলচালিত তাপবিদ্যুৎ, ভাড়াভিত্তিক প্রভৃতি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
বেসরকারি খাতে এত লোকসান ও ভর্তুকি জোগানোর পরও সাধারণ মানুষের ভরসার স্থল সরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানে জনগণের অর্থের অপব্যবহার হবে না। কিন্তু এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরও বেশি, হতাশা গভীর। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পিডিবির বোঝা দুই বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র’ শীর্ষক প্রতিবেদন তারই উদাহারণ। যেখানে বিভিন্ন দেশ পরিবেশবান্ধক ও সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সুফল পাচ্ছে, আর আমাদের কি না এটি বোঝা, এটি দুঃখজনক বৈকি! যেসব এলাকা জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার আওতায় আনা ব্যয়বহুল, উন্নত দেশগুলো সেসব এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ুপ্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈবশক্তি (বায়োগ্যাস, বায়োম্যাস, বায়োফুয়েল) প্রভৃতি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। অথচ এতে বেশ পিছিয়ে আমরা।
সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ দিয়েই একসময় জার্মানি ইউরোপে শীর্ষ বিদ্যুৎ রফতানিকারক দেশ ছিল। ভারতের চতুর্থ ব্যস্ততম কোচিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুরোটাই চলছে সৌরবিদ্যুতে। সৌরবিদ্যুৎ শুধু গৃহস্থালির মতো ছোট কাজে ব্যবহারোপযোগী, তা নয়। সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এখন জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যোগ হয়। এত সব দৃষ্টান্ত ও সম্ভাবনা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় আছে।
কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেটি বিবেচনায়ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জল ও সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় উৎস হতে পারে বায়ুবিদ্যুৎ। অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলে ব্যয় বাড়বে, উৎপাদনও হবে অনেক কম। তাই নতুন বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বিদ্যমান বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে কর্মক্ষম তুলতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সর্বব্যাপী উদ্যোগ আর রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। কেবল মুনাফা নয় ভাবতে হবে, সস্তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুফল যেন সহজলভ্য হয়। অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইডকল ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়নে গতি বাড়ানো হয়েছে। নবায়নযোগ্য কিছু জ্বালানি পণ্যে শুল্ক ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। তবে সেভাবে সুফল কেন আসেনি, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সর্বশেষ..