খবর

নভেম্বরেও উল্লম্ফনের ধারা রেমিট্যান্সে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেমিট্যান্সে উল্লম্ফনের ধারা অব্যাহত হয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২০৭ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন। নভেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ৩৩ শতাংশের ওপরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। অবশ্য একক মাস হিসেবে গত অক্টোবরের তুলনায় কিছুটা কমেছে নভেম্বরে। গত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার, স্থানীয় মুদ্রায় যা ১৭ হাজার ৯১৪ কেটি টাকা। নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৭ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ হিসেবে গত নভেম্বরে ২০১৯ সালের নভেম্বরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি এসেছে রেমিট্যান্স। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই এক হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এই অঙ্ক গত বছরের আলোচিত সময়ের চেয়ে দুই দশমিক আট বিলিয়ন ডলার বা ৪১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। এ হিসেবে গত অর্থবছরের পুরো সময়জুড়ে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণের ৬০ শতাংশই চলে এসেছে প্রথম পাঁচ মাসে।

যদিও করোনা মহামারি চলাকালে প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসীরই ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সময়েও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এর কারণ বিশ্লেষণ করছেন অনেকেই। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর সরকারের নগদ দুই শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে করোনায় চাকরি হারানো প্রবাসীরা হাতে থাকা সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এতেও রেমিট্যান্স বাড়ছে বলে করছেন বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সবমিলিয়ে এই রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই ক্রমাগত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বর্তমানে ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে রিজার্ভ।

গতকাল দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের ২৫ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসেবে ১০ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..